যাদবপুরে এবার আরএসএস-এর ‘শাখা’! কুচকাওয়াজ থেকে লাঠি খেলা—ক্যাম্পাসে ফিরছে কোন গরিমা?

যাদবপুরে এবার আরএসএস-এর ‘শাখা’! কুচকাওয়াজ থেকে লাঠি খেলা—ক্যাম্পাসে ফিরছে কোন গরিমা?

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে এবার সরাসরি নিজেদের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। পদার্থবিদ্যা বিভাগের সিনিয়র ল্যাবরেটরি অ্যাসিস্ট্যান্ট পলাশ মাঝির নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের একটি অংশ মঙ্গলবার থেকে ক্যাম্পাসে ‘শাখা’র সূচনা করেছেন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, প্রতিদিন ভোরে ঘণ্টাখানেক ধরে চলবে শারীরিক কসরত, কুচকাওয়াজ এবং লাঠিখেলা। দেশাত্মবোধ পুনরুজ্জীবিত করা এবং ক্যাম্পাস থেকে ‘মাওবাদী আদর্শ’ নির্মূল করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য বলে দাবি উদ্যোক্তাদের।

সাংস্কৃতিক গরিমা ও মাওবাদ দমনের লক্ষ্য

শাখার প্রধান উদ্যোক্তা পলাশ মাঝির মতে, ঋষি অরবিন্দের জাতীয়তাবাদী আদর্শে গড়ে ওঠা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে দেশাত্মবোধের অবক্ষয় ঘটেছে। তাঁর অভিযোগ, যাদবপুর এখন দেশবিরোধী স্লোগান ও বিশৃঙ্খলার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে এবং স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে নৈতিক সাহস ও শক্তি সঞ্চার করতে লাঠিখেলা এবং আধ্যাত্মিক চর্চা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। মূলত ক্যাম্পাসে সক্রিয় অতি-বামপন্থী বা মাওবাদী প্রভাব মোকাবিলা করতেই এই সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠরা মনে করছেন।

রাজনৈতিক সংঘাত ও সম্ভাব্য প্রভাব

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আরএসএসের এই সরাসরি উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। ইতিপূর্বে একাধিকবার এবিভিপি এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সাক্ষী থেকেছে এই ক্যাম্পাস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে দিলীপ ঘোষের মতো বিজেপি নেতারা বিভিন্ন সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অতি-বামপন্থী সংগঠন ‘বিপ্লবী ছাত্র ফ্রন্ট’-এর পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে বিভেদকামী এজেন্ডা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, আদর্শগত এবং সাংগঠনিক— দুই ভাবেই আরএসএসকে মোকাবিলা করা হবে।

শিক্ষা মহলের মতে, আরএসএসের নিয়মিত শাখা এবং লাঠিখেলা পরিচালনার এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরাচরিত বামপন্থী ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। একদিকে সঙ্ঘের পক্ষ থেকে ‘গরিমা ফেরানোর’ লড়াই, অন্যদিকে বাম ও অতি-বাম সংগঠনগুলোর ‘প্রতিরোধ’— এই দুই মেরুকরণের ফলে আগামী দিনে যাদবপুরের প্রশাসনিক ও শিক্ষা সংক্রান্ত স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *