এক বছর সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আর্জি মোদীর, দেশের স্বার্থে সায় দিলেন বাংলার ব্যবসায়ীরাও

এক বছর সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আর্জি মোদীর, দেশের স্বার্থে সায় দিলেন বাংলার ব্যবসায়ীরাও

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক আহ্বানে দেশজুড়ে সোনা ও রুপোর বাজারে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে দেশবাসীকে আগামী এক বছর সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই সোনা ও রুপোর ওপর আমদানি শুল্ক এক ধাক্কায় ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপে ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও দেশের স্বার্থে একে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বাংলার স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ।

অর্থনীতির রক্ষাকবচ ও ডলার সাশ্রয়

বিশ্ববাজারের বর্তমান অস্থিরতায় সোনার আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার খরচ হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে ১০ শতাংশ বেসিক কাস্টমস ডিউটি এবং ৫ শতাংশ কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস মিলিয়ে মোট ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের মতে, এই ‘কড়া ডোজ’ বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বাড়াতে এবং ডলারের বহির্গমন রোধ করতে সাহায্য করবে। আমদানিতে লাগাম টেনে ধরা গেলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

ব্যবসায় মন্দার মেঘ ও দেশপ্রেমের টানাপোড়েন

আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির ফলে সোনা ও রুপোর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে গয়না শিল্পের ওপর, যা বিক্রিতে বড়সড় ধস নামাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ব্যবসায়িক লোকসানের আশঙ্কা থাকলেও বাংলার ব্যবসায়ীরা সামগ্রিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। ওয়েস্ট বেঙ্গল বুলিয়ন মার্চেন্টস অ্যান্ড জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের মতে, ব্যবসার ক্ষতি হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের পাশে দাঁড়ানোই প্রথম কর্তব্য। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত না থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে শিল্পজগতকে, তাই আপাতত এই ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *