পাসার দান উল্টে দিচ্ছে ইউক্রেন! আমেরিকার সাহায্যে নামছে কিলার ড্রোন, চাপে ইরান

ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে এবার আমেরিকার সহায়তায় এগিয়ে এসেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেন। পেন্টাগন ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্পাদিত একটি চুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেন তাদের বিশেষ ড্রোন এবং রোবোটিক প্রযুক্তি আমেরিকাকে সরবরাহ করতে যাচ্ছে, যা এই অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্য বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউক্রেনীয় প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও কৌশল
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেন যে প্রযুক্তির ব্যবহার করে সফল হয়েছে, সেই একই মডেল এখন ইরানের বিরুদ্ধে প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। ২০২২ সালে কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার নৌ-অবরোধ ভাঙতে ইউক্রেন তাদের সাশ্রয়ী কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী সামুদ্রিক ড্রোন ব্যবহার করেছিল। হরমুজ প্রণালীতেও একইভাবে ইরানি নৌবহরকে মোকাবিলা করতে এই ড্রোনগুলো ব্যবহার করা হবে। উল্লেখ্য, ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো মার্কিন ড্রোনের তুলনায় অনেক কম ব্যয়বহুল, যা দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে আমেরিকার জন্য অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাজনক। এছাড়া, ইউক্রেন দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়ার ব্যবহৃত ইরানি ‘শাহেদ’ ড্রোনের মোকাবিলা করায় ইরানের অস্ত্র ও রণকৌশল সম্পর্কে তাদের গভীর জ্ঞান রয়েছে, যা এই অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হিসেবে স্বীকৃত, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে ইরান এই পথটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের শর্ত দিয়েছে। আমেরিকা এই শর্ত মেনে নিতে নারাজ হওয়ায় এখন সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এই পথটি সচল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই অভিযানে সরাসরি সেনা মোতায়েনের ঝুঁকি এড়াতে ইউক্রেনের দেওয়া ‘ওয়ার রোবট’ ব্যবহার করা হতে পারে, যা মার্কিন সেনাদের জীবনের ঝুঁকি কমিয়ে ইরানের অবস্থানগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম হবে। এই প্রযুক্তিগত সমন্বয় যদি সফল হয়, তবে তা বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করবে।