প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা থেকে বাংলার অর্থমন্ত্রী, কে এই সঞ্জীব সান্যাল?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলছে। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলোর দায়িত্বভার নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থ দফতরের মতো সংবেদনশীল মন্ত্রকগুলোর দায়িত্ব কার কাঁধে যাচ্ছে, তা নিয়ে চলছে বিস্তর চর্চা। এই তালিকায় সবথেকে চমকপ্রদ নাম হিসেবে উঠে আসছে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যালের নাম। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, রাজ্যের ভঙ্গুর আর্থিক অবস্থার হাল ধরতে কোনো পেশাদার অর্থনীতিবিদকেই অর্থমন্ত্রী হিসেবে চাইছে নতুন সরকার।
নন্দীগ্রাম থেকেই কি নির্বাচনী যাত্রা?
শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ায় নন্দীগ্রাম আসনটি বর্তমানে শূন্য হতে চলেছে। নিয়ম অনুযায়ী সেখানে উপ-নির্বাচন হবে। জল্পনা ছড়িয়েছে যে, ওই আসন থেকেই সঞ্জীব সান্যালকে প্রার্থী করতে পারে শাসক দল। বিধানসভার সদস্য হয়ে এলে তাঁকে অর্থমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। দিল্লি ও কলকাতার ক্ষমতার অলিন্দে এই আলোচনা এখন ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।
আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কিং থেকে মোদীর উপদেষ্টা
সঞ্জীব সান্যাল শুধুমাত্র একজন অর্থনীতিবিদ নন, আন্তর্জাতিক স্তরেও তাঁর বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। কলকাতায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা সান্যাল দিল্লির শ্রী রাম কলেজ অব কমার্স ও অক্সফোর্ডের সেন্ট জন কলেজের প্রাক্তন ছাত্র। দীর্ঘ সময় ডয়েস ব্যাঙ্কের মুখ্য ইকনমিস্ট হিসেবে বিশ্ববাজার পর্যবেক্ষণ করেছেন তিনি। ২০১৭ সালে ভারতের অর্থ মন্ত্রকের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ শুরু করার পর, ২০২২ সালে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হন।
রাজ্যের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
সঞ্জীব সান্যালের মতো একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করার পেছনে গভীর কৌশল দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, রাজ্যের ঋণের বোঝা কমানো এবং নতুন বিনিয়োগ টানার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা ও কেন্দ্রীয় স্তরে সুসম্পর্ক বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। যদি এই জল্পনা বাস্তবে রূপ পায়, তবে বাংলার প্রশাসনিক কাঠামোয় এটি হবে এক বড় ধরনের পেশাদারী পরিবর্তন, যা দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের রাজস্ব নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।