ডলারের দাপট কমাতে মরিয়া বেজিং, টানা ১৮ মাস সোনা কিনে বিশ্ববাজারে চমক চিনের

বিশ্বজুড়ে সোনার বাজারে একাধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে বড়সড় কৌশল গ্রহণ করেছে চিন। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসেই দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এক ধাক্কায় ৮ টন সোনা ক্রয় করেছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থবাজারে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই নিয়ে টানা ১৮ মাস ধরে সোনা কেনার ধারা বজায় রাখল বেজিং। বর্তমানে চিনের সরকারি স্বর্ণ মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭২.৮ মিলিয়ন ট্রয় আউন্স, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৪২.৭৬ বিলিয়ন ডলার। ড্রাগনের দেশের এই অতি-সক্রিয়তায় হতবাক বিশেষজ্ঞরা এর নেপথ্যে গভীর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ দেখছেন।
ডলার নির্ভরতা কমানোর রণকৌশল
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চিনের এই ধারাবাহিক সোনা কেনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো মার্কিন ডলারের ওপর থেকে অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে আনা। আমেরিকার সাথে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বেজিং নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারকে বৈচিত্র্যময় করতে চাইছে। ওয়াশিংটন বিভিন্ন সময়ে অন্য দেশের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে থাকে, যা ডলার-নির্ভর অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এই ঝুঁকি এড়াতেই চিন সোনা মজুতকে সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে। বেজিং মনে করে, সোনা এমন একটি সম্পদ যা কোনো বিশেষ দেশের নিয়ন্ত্রণে নেই এবং যেকোনো বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকটে এটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।
ইউয়ানের শক্তি বৃদ্ধি ও বিশ্ববাজারের প্রভাব
চিনের এই বিপুল স্বর্ণ মজুতের আরেকটি লক্ষ্য হলো নিজেদের জাতীয় মুদ্রা ‘ইউয়ান’-কে বিশ্ববাণিজ্যে আরও শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা। ডলারের বিকল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক লেনদেনে ইউয়ানের গুরুত্ব বাড়াতে শক্তিশালী স্বর্ণভাণ্ডার চিনের অবস্থানকে মজবুত করবে। তবে চিনের এই নিরবচ্ছিন্ন ক্রয়ের প্রভাবে বিশ্ববাজারে সোনার দামে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। একদিকে যখন খুচরো বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা চিন্তিত, ঠিক তখন দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লাভের আশায় বেজিং এই ধারা অব্যাহত রেখেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, চিন কেবলমাত্র স্বল্পমেয়াদি মুনাফার জন্য নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতে নিজেদের নতুন মেরুকরণ নিশ্চিত করতেই এই ‘গোল্ড গেম’ খেলছে।