সোনা কেনায় লাগাম টানল কেন্দ্র, বাড়িতে কতটুকু ধাতু রাখা বৈধ?

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার রক্ষায় দেশবাসীকে আগামী এক বছর সোনা না কেনার আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই আহ্বানের রেশ কাটতে না কাটতেই সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্ক এক ধাক্কায় ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে কেন্দ্র। সরকারের এই কঠোর সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো সোনা আমদানিতে রাশ টেনে বাণিজ্যে ঘাটতি কমানো এবং ডলারের বিপরীতে টাকার পতন রোধ করা। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, বাড়িতে ঠিক কতটা সোনা রাখা আইনত বৈধ এবং নিয়ম না মানলে শাস্তির বিধান কী।
বাড়িতে সোনা রাখার আইনি সীমা
সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ডিরেক্ট ট্যাক্সেস বা সিবিডিটির নিয়ম অনুযায়ী, আয়ের উৎস সংক্রান্ত কোনো নথি ছাড়াই একজন বিবাহিত মহিলা সর্বোচ্চ ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত সোনা নিজের কাছে রাখতে পারেন। অবিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সীমা ২৫০ গ্রাম এবং পরিবারের পুরুষ সদস্যদের জন্য ১০০ গ্রাম। এই নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত সোনা থাকলে আয়কর দফতর তল্লাশির সময় তা বাজেয়াপ্ত করতে পারবে না। তবে এই সীমার অতিরিক্ত সোনা থাকলে অবশ্যই তার বৈধ ক্রয়ের রসিদ বা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্তির প্রমাণ থাকতে হবে। উৎসের সঠিক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে বড় অঙ্কের জরিমানা এমনকি জেল হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
ক্রয় ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সোনা কেনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে নগদ লেনদেনের ঊর্ধ্বসীমা ২ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক দিনে এর বেশি মূল্যের সোনা কিনতে হলে গ্রাহককে অবশ্যই কার্ড বা চেকের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করতে হবে এবং প্যান কার্ডের বিবরণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও কর কাঠামো স্পষ্ট করা হয়েছে। সোনা কেনার তিন বছর পর তা বিক্রি করলে ২০ শতাংশ হারে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন লাভ বা এলটিসিজি কর দিতে হবে। তবে তিন বছরের মধ্যে বিক্রি করলে লভ্যাংশ ব্যক্তিগত আয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির করের ধাপ অনুযায়ী ট্যাক্স কাটা হবে।
বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার রক্ষা ও সম্ভাব্য প্রভাব
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা ব্যবহারকারী দেশ হলেও চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ায় সরকার আমদানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে স্থানীয় বাজারে সোনা ও রুপোর দাম অনেকটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমদানিতে এই কড়াকড়ি শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ডলারের সাশ্রয় ঘটালেও মধ্যবিত্তের চিরাচরিত সঞ্চয়ের অভ্যাসে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।