সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে দ্রুত জমি হস্তান্তরের পথে রাজ্য

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং অনুপ্রবেশ রুখতে তৎপরতা শুরু করেছে নবান্ন। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কতদূর এগিয়েছে, তা নিয়ে আজ একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে বসেছে রাজ্য সরকার। ভার্চুয়াল এই বৈঠকে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের সচিবের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর জেলাশাসক ও বিএলআরও-রা উপস্থিত রয়েছেন। মূলত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ ও তা দ্রুত বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়াই এই বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য।
জমি জট কাটাতে ৪৫ দিনের সময়সীমা
সীমান্ত এলাকায় জমি অধিগ্রহণ নিয়ে অতীতে আইনি ও সামাজিক নানাবিধ জটিলতা দেখা দিলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে নবান্ন সেই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে চায়। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই জমি হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন করার জন্য ৪৫ দিনের একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। আজকের বৈঠকে সেই সময়সীমার মধ্যে কতটুকু কাজ সম্পন্ন হলো এবং বাকি জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কী কী বাধা রয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হবে। সাম্প্রতিক তথ্যানুসারে, সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে প্রাথমিক পর্যায়ে ১০৫ একর জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও বর্তমান চিত্র
পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ২২১৬.৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে বর্তমানে ১৬৪৮ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট ৫৬৯ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ১১৩ কিলোমিটার নদীপথ হওয়ার কারণে সেখানে বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়। বাকি ৪৫৬ কিলোমিটার এলাকায় দ্রুত কাঁটাতার বসাতে চায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ইতিপূর্বে ১৮১ কিলোমিটার জমির জন্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অর্থ বরাদ্দ করা হলেও জমি হস্তান্তর নিয়ে কিছু প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ছিল।
রাজ্য প্রশাসনের এই সক্রিয় পদক্ষেপের ফলে সীমান্তে ফেন্সিং নির্মাণের কাজ গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধ করার পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে। আজকের মেগা বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর হলে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ঝুলে থাকা জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত চূড়ান্ত রূপ পাবে।