শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের দীর্ঘ বৈঠক, বাণিজ্যে অংশীদারিত্ব ও তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম চীন সফরে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ সময় ধরে চলা এই দুই ঘণ্টার বৈঠককে ট্রাম্প এক শব্দে ‘চমৎকার’ বলে অভিহিত করেছেন। বৈশ্বিক রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা
দীর্ঘ সাত বছর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বেইজিং সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দুই দেশই। ট্রাম্পের এবারের সফরে তার সঙ্গে এসেছেন টেসলার ইলন মাস্ক, অ্যাপলের টিম কুক এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াংয়ের মতো অন্তত ৩০টি শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই সফরকে কেন্দ্র করে মন্তব্য করেছেন যে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে অংশীদার হওয়া উচিত। তিনি বাণিজ্য যুদ্ধে কোনো পক্ষই বিজয়ী হয় না উল্লেখ করে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার ওপর জোর দেন। মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টদের উপস্থিতিতে চীন তাদের বাজার আরও উন্মুক্ত করবে কি না, তা এখন বড় দেখার বিষয়।
তাইওয়ান ইস্যুতে কড়া হুঁশিয়ারি
বৈঠকের পরিবেশ অত্যন্ত আন্তরিক থাকলেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় তাইওয়ান নিয়ে শি জিনপিং স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, তাইওয়ান ইস্যুটি সঠিকভাবে সামলানো না হলে দুই দেশ সরাসরি সংঘাতের মুখে পড়তে পারে, যা বিশ্ব রাজনীতির জন্য বিপজ্জনক হবে। স্বশাসিত এই দ্বীপটিতে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির প্রেক্ষাপটে বেইজিং তাদের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
কৌশলগত প্রভাব ও ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট
বৈঠক শেষে দুই নেতা ঐতিহাসিক টেম্পল অব হেভেন পরিদর্শন করেন। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প সরাসরি তাইওয়ান নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও চীনের পরিবেশ ও আতিথেয়তার প্রশংসা করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন চীনের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তেজনা কমিয়ে একটি নতুন অর্থনৈতিক ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান ইস্যুতে চীনকে পাশে পাওয়াও ওয়াশিংটনের অন্যতম লক্ষ্য। এই বৈঠকের ফলাফল দীর্ঘমেয়াদে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।