লড়াকু অদ্রিজার জয়! ৮২টি কেমোর লড়াই ছাপিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যে দশম অদ্রিজা

ক্যানসারের মতো মারণব্যাধিকে হারিয়ে জীবনের লড়াইয়ে আগেই জয়ী হয়েছিলেন তিনি। এবার স্কুলজীবনের শেষ বড় পরীক্ষা উচ্চ মাধ্যমিকেও অভাবনীয় সাফল্য ছিনিয়ে আনলেন উত্তর ২৪ পরগনার নিমতার বাসিন্দা অদ্রিজা গণ। শারীরিক যন্ত্রণা আর অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করেই মেধা তালিকায় প্রথম দশে নাম তুলে নজির গড়লেন এই ‘কর্কট-বিজয়িনী’। ৪৮৭ নম্বর পেয়ে রাজ্যে দশম স্থান দখল করেছেন তিনি।
চার বছরের মরণপণ লড়াই
অদ্রিজার এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এক হাড়হিম করা সংগ্রামের কাহিনি। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর শরীরে থাবা বসিয়েছিল ক্যানসার। মাত্র ১২-১৩ বছর বয়স থেকেই শুরু হয় যন্ত্রণাদায়ক চিকিৎসা। টানা চার বছর ধরে তাঁকে নিতে হয়েছে একের পর এক ৮২টি কেমোথেরাপি। শরীর ভেঙে পড়লেও মনের জোর হারাননি অদ্রিজা। সেই লড়াইয়ের প্রতিটি ধাপ সামলে আজ তিনি সেরাদের তালিকায় নিজের জায়গা করে নিলেন।
অদম্য ইচ্ছাশক্তির জয়
অদ্রিজার এই সাফল্যে খুশির হাওয়া নিমতা এলাকায়। উচ্চ মাধ্যমিকে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর (৪৮৭) প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, প্রতিকূলতা কখনও প্রতিভার পথ আগলে দাঁড়াতে পারে না। পরীক্ষার প্রস্তুতির সময়ও শারীরিক ধকল ছিল, কিন্তু লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি তিনি। তাঁর এই কৃতিত্ব শুধুমাত্র তাঁর পরিবারের জন্যই নয়, বরং রাজ্যের অগুনতি অসুস্থ ও লড়াকু পড়ুয়াদের কাছে এক পরম অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
মেধাতালিকায় স্থান পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অদ্রিজা জানান, এই লড়াই সহজ ছিল না। কিন্তু মা-বাবা এবং শিক্ষকদের সহযোগিতায় তিনি আজ এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছেন। এখন তাঁর লক্ষ্য উচ্চশিক্ষা এবং আগামী দিনেও এভাবেই জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় নিজেকে প্রমাণ করা। কর্কট রোগের থাবাকে জয় করে অদ্রিজা আজ বাংলার ঘরে ঘরে এক হার-না-মানা যোদ্ধার নাম।