কলকাতায় ১৪ বছর পর মার্কিন বিদেশসচিবের পদধূলি? মার্কো রুবিয়োর সফর ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

কলকাতায় ১৪ বছর পর মার্কিন বিদেশসচিবের পদধূলি? মার্কো রুবিয়োর সফর ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

চৌদ্দ বছরের ‘বনবাস’ কাটিয়ে রামের অযোধ্যায় ফেরার গল্পের মতো, দীর্ঘ ১৪ বছরের বিরতি শেষে আবারও কোনও মার্কিন বিদেশসচিবের (US Secretary of State) কলকাতা সফরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চলতি মে মাসের শেষ দিকে ভারত সফরে আসছেন ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ তথা মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। তাঁর এই সফরে দিল্লির হাইভোল্টেজ বৈঠকের পাশাপাশি কলকাতার নাম জড়িয়ে পড়ায় নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

সফরের সময়সূচী ও প্রেক্ষাপট

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ২৬ মে ভারতে থাকবেন মার্কো রুবিও। দিল্লিতে তিনি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন। এ ছাড়া, ২৬ মে দিল্লিতে কোয়াড (Quad) গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলোর বিদেশমন্ত্রীদের সম্মেলনেও তিনি অংশ নেবেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দিল্লির বাইরেও রুবিও ভারতের বৈচিত্র্য দেখতে আগ্রহী। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর (Sergio Gor) একটি সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিদেশসচিব দিল্লি ছাড়াও অন্য শহর সফরের কথা ভাবছেন, যার মধ্যে কলকাতার নাম জোরালোভাবে উঠে আসছে।

১৪ বছর আগের স্মৃতি ও বর্তমান গুরুত্ব

রাজ্যে শেষবার মার্কিন বিদেশসচিবের পা পড়েছিল ২০১২ সালে। তৎকালীন ওবামা প্রশাসনের বিদেশসচিব হিলারি ক্লিন্টন সেবার কলকাতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তারপর দীর্ঘ ১৪ বছর কোনও মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট কলকাতা সফরে আসেননি। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মতে, ভারতে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের যে পরিকল্পনা রয়েছে, রুবিওর এই সফরে তা নিয়ে বড় কোনও ঘোষণা হতে পারে।

কলকাতায় সম্ভাব্য কর্মসূচি

রুবিও যদি কলকাতায় আসেন, তবে তা মূলত বিনিয়োগ ও কৌশলগত সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করেই হবে। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মার্কিন প্রশাসনের এই আগ্রহকে বাংলার শিল্পায়নের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। যদিও বিদেশ মন্ত্রক বা মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে কলকাতার সূচী এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়নি, তবে রাষ্ট্রদূত গোর-এর “দিল্লির বাইরে অন্য জায়গায় যাওয়ার ইচ্ছা” সংক্রান্ত মন্তব্য জল্পনাকে উস্কে দিয়েছে। যদি এই সফর বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বাংলার আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *