‘এখনই বিরোধিতা নয়’, নতুন সরকারের পক্ষে কুণালের সওয়াল ঘিরে শোরগোল তৃণমূলের অন্দরে

‘এখনই বিরোধিতা নয়’, নতুন সরকারের পক্ষে কুণালের সওয়াল ঘিরে শোরগোল তৃণমূলের অন্দরে

১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার দিনই এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করে বসলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে যেখানে শাসক ও বিরোধী দলের সংঘাত চিরকালীন, সেখানে কুণাল ঘোষের মুখে নতুন সরকারের প্রতি এই ‘নরম’ মনোভাব রাজনৈতিক মহলে এক নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার শপথ নেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি কার্যত সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা এবং ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন।

জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা

কুণাল ঘোষ জানান, রাজ্যে একটি নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর মতে, গণতন্ত্রে জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে নতুন সরকারকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। কুণাল বলেন, “সরকার নতুন তৈরি হয়েছে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী এসেছেন দায়িত্বে। একটু সময় দিতে হবে। প্রথমদিন থেকেই সরকারের বিরোধিতা করলে সেটা জনগণ ভালোভাবে নেবে না।” তাঁর এই মন্তব্য আসলে তৃণমূলের কট্টরপন্থী অংশের বিরুদ্ধে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

ইতিবাচক ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

বিরোধী দলের বিধায়ক হিসেবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে কুণাল বলেন, “নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত ইতিবাচকও হতে পারে, নেতিবাচকও হতে পারে। সেসব দেখে যেখানে বিরোধিতা করার, করতে হবে। কিন্তু এখনই নয়, তাতে জনতার কাছে ভুল বার্তা যাবে।” অর্থাৎ, ঢালাও বিরোধিতা না করে সরকারের ভালো কাজকে সমর্থন এবং ভুল সিদ্ধান্তের যুক্তিনির্ভর বিরোধিতার পক্ষেই সওয়াল করেছেন তিনি।

তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি?

কুণাল ঘোষ যখন এই মন্তব্য করছেন, তখন দলের অন্য অনেক নেতাই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে নতুন সরকারকে বিঁধছেন। এমন পরিস্থিতিতে কুণালের এই ‘গঠনমূলক’ অবস্থান তৃণমূলের অন্দরে থাকা নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্বকে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, এর আগেও দলের নানা সিদ্ধান্তে কুণালকে ভিন্ন পথে হাঁটতে দেখা গিয়েছে। শপথের দিন তাঁর এই মন্তব্য বিধানসভার অলিন্দে শাসক-বিরোধীর সমীকরণকে ঠিক কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *