ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে চাঁদের হাসি! অভাবকে হার মানিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে ব্লকের সেরা টোটো চালকের মেয়ে

২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় এক অভাবনীয় সাফল্যের নজির গড়লেন মালদার বাঁশহাট্টা এলাকার সুমি পাল। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে গৃহশিক্ষক ছাড়াই মেধার লড়াইয়ে বাজিমাত করেছেন তিনি। পরীক্ষায় ৪৭০ নম্বর পেয়ে পুরাতন মালদা ব্লকের সমস্ত স্কুলকে পিছনে ফেলে মেয়েদের মধ্যে শীর্ষ স্থানটি দখল করে নিয়েছেন এই মেধাবী ছাত্রী। পুরাতন মালদা পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা টোটো চালক উত্তম পাল ও গৃহবধূ রাখি পালের কন্যা সুমির এই সাফল্যে জেলা জুড়ে খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
অদম্য জেদ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতায় বাজিমাত
তীব্র আর্থিক অনটনের কারণে সুমির পরিবারের পক্ষে গৃহশিক্ষক রাখার সামর্থ্য ছিল না। তবে এই প্রতিকূলতাকে অন্তরায় হতে দেননি তিনি। স্কুলের শিক্ষিকাদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং নিজের কঠোর পরিশ্রমকে পাথেয় করে সুমি এই সাফল্য অর্জন করেছেন। সুমির কথায়, প্রাইভেট পড়ার সুযোগ না থাকলেও স্কুলের দিদিমণিরা সবসময় তাঁর পাশে থেকেছেন। ভবিষ্যতে একজন আইনজীবী হয়ে সাধারণ ও অসহায় মানুষের সেবা করার লক্ষ্য স্থির করেছেন তিনি। মেয়ের এই সাফল্যে আবেগপ্রবণ বাবা উত্তম পাল জানিয়েছেন, সামান্য টোটো চালিয়ে কষ্ট হলেও মেয়ের স্বপ্নপূরণে তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।
অনুপ্রেরণার নাম যখন সুমি পাল
আহ্লাদমণি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুস্মিতা দাসের মতে, সুমির এই ফলাফল ব্লকের মধ্যে সর্বোচ্চ। তাঁর এই জেদ ও সাফল্য আগামী দিনের ছাত্রছাত্রীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। অভাবের কাছে হার না মেনে কীভাবে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো যায়, সুমি পাল আজ তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইতিমধ্যেই স্থানীয় কাউন্সিলর থেকে শুরু করে পাড়া-প্রতিবেশীরা কৃতি এই ছাত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এই সাফল্যের মাধ্যমে স্পষ্ট যে, সঠিক লক্ষ্য এবং অদম্য ইচ্ছা থাকলে প্রতিকূল পরিবেশও মেধার পথে বাধা হতে পারে না। সুমির এই জয়জয়কার মালদার প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।