১৩ বছরে ৫ নিকাহ ও ৩ হলালা, দিল্লিতে ধর্মান্তর ও ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হিন্দু নারী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের ফাঁদ পেতে এক হিন্দু নারীকে ধর্মান্তর ও দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে অমানুষিক নির্যাতনের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। ইন্দোরের বাসিন্দা ৩১ বছর বয়সী এক নারী উত্তরপ্রদেশের লোনি এলাকার অঙ্কুর বিহার থানায় এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারিণীর দাবি, তাঁকে প্রতারণা করে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে এবং গত এক যুগে ৫ বার বিয়ে ও ৩ বার হলালা প্রথার নামে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
পরিচয় গোপন ও পরিকল্পিত ধর্মান্তর
ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালে। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে ‘নবীন রাণা’ পরিচয় দিয়ে নাভেদ নামক এক যুবক তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। নাভেদ তাঁকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দিল্লিতে ডেকে নেয়। এরপর মুজাফফরনগরের একটি মাদ্রাসায় নিয়ে গিয়ে তাঁর আসল পরিচয় প্রকাশ পায়। সেখানে তাঁকে আটকে রেখে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয় এবং বোরখা পরিধানসহ ধর্মীয় আচার পালনে চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিকাহ ও হলালার নামে ধারাবাহিক লাঞ্ছনা
ভুক্তভোগী নারীর বয়ান অনুযায়ী, গত ১৩ বছরে তাঁকে এক হাত থেকে অন্য হাতে বদল করা হয়েছে। প্রথম দফায় মুজাফফরনগরের এক বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়, যিনি কয়েক মাস পর তাঁকে তালাক দেন। এরপর জয়পুরের একটি মাদ্রাসায় তাঁকে ‘হলালা’র শিকার হতে হয়। ২০১৫ সালে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে হয় শামলির এক ব্যক্তির সঙ্গে, যিনি ২০১৯ সালে মারা যান। পরবর্তীতে গাজিয়াবাদের খালিদ হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হলেও ২০২২ সালে তিন তালাকের মাধ্যমে সেই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়। পুনরায় বিয়ের শর্ত হিসেবে তাঁকে আবার হলালা করতে বাধ্য করা হয় এবং সেই সুযোগে গণধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী।
আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
নির্যাতনের হাত থেকে পালিয়ে এসে স্থানীয় এক বিধায়কের সহায়তায় গত ৫ মে পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই নারী। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে নাভেদ, খালিদ হোসেন এবং বিতর্কিত ধর্মীয় নেতা মাওলানা কলিম সিদ্দিকীসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত খালিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের ধরতে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং ধর্মান্তর ও নারী সুরক্ষার বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।