বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্পিকার হলেন রথীন্দ্র বোস, এবার সরাসরি সম্প্রচারিত হবে বিধানসভার অধিবেশন!

প্রত্যাশামতোই কোনো রকম বিরোধিতা ছাড়াই অষ্টাদশ বিধানসভার স্পিকার নির্বাচিত হলেন শাসকদলের মনোনীত প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বোস। শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার হিসেবে তাঁর নাম প্রস্তাব করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, যা সমর্থন করেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালসহ অন্যান্য শাসক বিধায়করা। বিরোধী দল এই পদে কোনো প্রার্থী দাঁড় না করানোর ফলে ধ্বনিভোটে সর্বসম্মতিক্রমে স্পিকার নির্বাচিত হন রথীন্দ্র বোস। এরপর প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় তাঁকে স্পিকারের আসনে স্বাগত জানান। বিধানসভার গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য বজায় রেখে প্রার্থী না দেওয়ায় বিরোধী শিবিরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ঐতিহাসিক ঘোষণা ও লাইভ সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত
স্পিকারকে স্বাগত জানানোর ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী একটি বড়সড় ও নজিরবিহীন ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এখন থেকে বিধানসভার বাজেট অধিবেশনসহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যপদ্ধতি সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) করা হবে। এর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণ মানুষ যাতে নিজেদের নির্বাচিত বিধায়কদের ভূমিকা, সরকারের কাজের ধরন এবং বিরোধীদের আচরণ সরাসরি নিজের চোখে দেখতে পারেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে সংসদীয় রাজনীতিতে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অতীতের তিক্ততা ভুলে সংসদীয় গণতন্ত্রে নতুন বার্তা
এই নতুন ব্যবস্থার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, বিধানসভা কোনো মারামারির জায়গা নয় এবং শাসক দল চায় না কোনো কর্মসূচি অহেতুক ভেস্তে যাক। অতীতে বিরোধী বিধায়কদের রক্তক্ষরণ কিংবা দীর্ঘ ১১ মাস সাসপেন্ড থাকার মতো তিক্ত অভিজ্ঞতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, বর্তমান সরকার বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী। ‘হাউস বিলংস টু অপোজিশন’—এই নীতি মেনে বিরোধীদের সংখ্যা কম হলেও তাদের পর্যাপ্ত বলার সুযোগ দেওয়া হবে এবং শাসক-বিরোধী ভারসাম্য বজায় রেখেই হাউস চালানো হবে। এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরে অহেতুক বিশৃঙ্খলা কমবে এবং গঠনমূলক আলোচনার পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।