তেলের দাম বাড়ায় আগে কষ্ট করার পরামর্শ দিলীপ ঘোষের, বিশ্ব সংকটের জের ভারতে

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ভারতে এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়ল পেট্রল ও ডিজেলের দাম। ইরান যুদ্ধের আবহে দেশে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, বিশ্বজুড়ে যে সংকট চলছে, তার থেকে ভারত আলাদা থাকতে পারে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশবাসীকে ‘আগে কষ্ট করার’ পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
আজ দেশজুড়ে জ্বালানির দাম এক লাফে বেশ কিছুটা বেড়েছে। কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ৩.২৯ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮.৭৪ টাকায় এবং ডিজেলের দাম ৩.১১ টাকা বেড়ে হয়েছে ৯৫.১৩ টাকা। একইভাবে দিল্লি, মুম্বই এবং চেন্নাইতেও পেট্রল-ডিজেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এছাড়া দেশজুড়ে সিএনজির দামও কেজিতে ২ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘদিন তেলের দাম না বাড়ানোর ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
বিশ্ব রাজনীতির প্রভাব ও সরকারি অবস্থান
দিলীপ ঘোষ উল্লেখ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধ বা অস্থিরতা তৈরি হলে তেলের দাম বাড়া স্বাভাবিক। ভারত প্রায় ৪০টি দেশ থেকে তেল আমদানি করে। ফলে বিশ্ববাজারের এই সংকটের প্রভাব এড়ানো সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দীর্ঘদিন ধরে এই জ্বালানি সংকটের বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি পড়তে দেননি। তবে বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
ভবিষ্যতের প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
মন্ত্রীর মতে, দেশে তেলের অভাব না থাকলেও একটি বড় সংকট বা ক্রাইসিস তৈরি হয়েছে যা নিয়ন্ত্রণে আনা আমাদের হাতে নেই। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের কথা ভেবে সবাইকে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে এবং সাবধান হতে হবে। তাঁর বক্তব্য, আগে কষ্ট করলে পরে কষ্টের তীব্রতা কম হবে। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের পকেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।