ভোট দেওয়ার পরও ভোটার তালিকা থেকে নাম উধাও, ফরাক্কায় জন্মতারিখের জটলায় বিপাকে তিন ভাই!

এসআইআর (স্টেট ইমিগ্রেশন রেজিস্টার) শুনানিতে নথিপত্র জমা দিয়ে মিলেছিল সবুজ সংকেত। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম ওঠার পর গত ২৩ এপ্রিল ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকারও প্রয়োগ করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু ভোট দেওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই ভোটার তালিকা থেকে উধাও হয়ে গেল ফরাক্কার এক পরিবারের তিন ভাইয়ের নাম। নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তাঁদের নাম ‘ডিলিট’ বা বাতিল করায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা ব্লকের বেনিয়াগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের আন্ধুয়া দক্ষিণ পাড়া এলাকায়।
জন্মতারিখের অসঙ্গতি ও নাগরিকত্বে সন্দেহ
রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী মুদ্দিন শেখের তিন ছেলে—বাসির শেখ, কামরুল শেখ ও নাজবুল শেখের নাম এর আগে এসআইআর শুনানির পর সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত হয়েছিল। তবে সম্প্রতি কলকাতার জোকার ১১ নম্বর ট্রাইব্যুনাল থেকে আচমকা ডাক পাওয়ার পর তাঁরা জানতে পারেন, ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিন ভাইয়ের জন্মতারিখের ব্যবধানে মারাত্মক অসঙ্গতি রয়েছে। নথিতে বাসিরের জন্ম ১৯৮১ সালের মার্চে, কামরুলের জন্ম ১৯৮১ সালের নভেম্বরে এবং নাজবুলের জন্ম ১৯৮২ সালের জুনে দেখানো হয়েছে। মাত্র ৭ থেকে ৯ মাসের ব্যবধানে তিন ভাইয়ের জন্ম হওয়া স্বাভাবিক নয় বলেই তাঁদের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে ট্রাইব্যুনাল।
হয়রানি ও আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি
ভোট দেওয়ার পর এভাবে নাম বাতিল হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বুথের বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার) স্বয়ং বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এর আগের শুনানিতে ভোটার কার্ড, স্কুল সার্টিফিকেটসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় বৈধ নথিপত্র জমা দেওয়ার পরেই তাঁদের নাম তালিকায় উঠেছিল। প্রশাসনের একাংশের মতে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কড়া তথ্য যাচাইয়ের কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে কোনো আগাম নোটিশ বা স্পষ্টীকরণ ছাড়াই হুট করে নাম বাদ দেওয়ায় চরম হয়রানির মুখে পড়েছেন ওই তিন ভাই। এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবং নিজেদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করতে শেখ পরিবার এখন উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।