আদালতেই বড় ধাক্কা কেজরিওয়ালের! বিচারপতির মন্তব্যে তোলপাড় রাজনীতি

দিল্লির আবগারি নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে এবার বিচারবিভাগ ও রাজনীতির অন্দরে এক নজিরবিহীন সংঘাতের সৃষ্টি হলো। আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং দলের একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি স্বরকান্ত শর্মা। বিচারপতির অভিযোগ, তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে নিশানা করে সমাজমাধ্যমে সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত কুৎসা চালানো হচ্ছে, যা স্বাধীন বিচারব্যবস্থার ওপর এক বড় আঘাত।
বিচারপতি শর্মা সাফ জানিয়েছেন যে ডিজিটাল প্রচারের মাধ্যমে আদালতের বাইরে একটি সমান্তরাল আখ্যান তৈরির চেষ্টা চলছে। মামলার শুনানি চলাকালীন সমাজমাধ্যমে কুরুচিকর ও সম্পাদিত ভিডিও ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। বিচারপতির মতে, এটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সম্মানহানি নয়, বরং গোটা বিচারবিভাগীয় প্রতিষ্ঠানকে ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
সংঘাতের সূত্রপাত ও সত্যাগ্রহের ডাক
এই সংঘাতের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল আরও আগেই। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বিচারপতি শর্মার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছিলেন এবং তাঁর এজলাসে শুনানিতে অংশ নিতে অস্বীকার করেন। সমাজমাধ্যমে মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহের পথ অনুসরণের কথা উল্লেখ করে কেজরিওয়াল জানান, বিবেকের তাড়নায় তিনি এই বেঞ্চে কোনও সওয়াল করবেন না। এর জবাবে বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন যে, গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণযোগ্য হলেও আদালতের জনবিশ্বাস ভাঙার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
মামলার আওতায় আপ-এর শীর্ষ নেতৃত্ব
আদালত অবমাননার এই মামলায় কেবল অরবিন্দ কেজরিওয়াল একাই নন, জড়িয়ে পড়েছে আম আদমি পার্টির প্রায় পুরো শীর্ষ নেতৃত্ব। তালিকায় নাম রয়েছে মণীশ সিসোদিয়া, সঞ্জয় সিং, দুর্গেশ পাঠক, বিনয় মিশ্র, দেবেশ বিশ্বকর্মা এবং সৌরভ ভরদ্বাজের। এর পাশাপাশি যে সমস্ত ইউটিউবাররা আদালতের অবমাননাকর ও বিকৃত ভিডিও ছড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।
শুনানি থেকে অব্যাহতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
আইনি নিরপেক্ষতা ও বিচারবিভাগীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিচারপতি স্বর্ণাকান্ত শর্মা আবগারি নীতি মামলার মূল শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। মামলাটি এখন অন্য একটি বেঞ্চে স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই সিদ্ধান্ত কোনও চাপের মুখে পড়ে নয়, বরং নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিবাদের নামে আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার এই ঘটনা দিল্লির রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইনি লড়াইয়ের ফলে আম আদমি পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর আইনি চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং বিচারব্যবস্থার সঙ্গে রাজনীতির এই সংঘাত আগামী দিনে দেশের প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।