দলীয় নেতার দাদাগিরির অবসান, তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগে শ্রীঘরে বাগুইআটির তৃণমূল কাউন্সিলর

দলীয় নেতার দাদাগিরির অবসান, তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগে শ্রীঘরে বাগুইআটির তৃণমূল কাউন্সিলর

এলাকার দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিতি ছিল তাঁর। কিন্তু আইন যে সবার জন্য সমান, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। প্রোমোটারকে মারধর এবং একের পর এক তোলাবাজির গুরুতর অভিযোগে অবশেষে পুলিশি খাঁচায় বন্দি হলেন বাগুইআটির তৃণমূল কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী। শুক্রবার বাগুইআটি থানার পুলিশ দীর্ঘ টালবাহানার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই বিধাননগর পুরনিগম তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

পুরনো অপরাধ ও লাগামহীন দৌরাত্ম্য

সমরেশ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কাজের খতিয়ান বেশ দীর্ঘ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় বছর দুয়েক আগে এলাকার এক প্রোমোটারকে মারধর ও হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে এই তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। সেই সময় থানায় মামলা দায়ের হলেও সমরেশ বাবু গা ঢাকা দেওয়ায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পরবর্তীতে আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন এবং আদালত থেকে আগাম জামিন নেন। তবে জামিন পেলেও তাঁর স্বভাব বা এলাকার ওপর দাপট কোনোটিই কমেনি বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ।

পতন ও গ্রেপ্তারের কারণ

আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে পুনরায় তোলাবাজির মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠতে শুরু করে। এলাকার ব্যবসায়ী ও নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগে দিনকয়েক আগে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়। একের পর এক অভিযোগ জমা পড়তে থাকায় এবং নবান্নের পক্ষ থেকে দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা থাকায়, এবার আর পার পাননি এই কাউন্সিলর। শুক্রবার বাগুইআটি থানার পুলিশ কোমর বেঁধে নেমে সমরেশ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করে।

এই গ্রেপ্তারের ফলে একদিকে যেমন বাগুইআটি ও সংলগ্ন এলাকার সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে শাসকদলের ভাবমূর্তিও বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। স্থানীয় স্তরে দলের একাংশের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছিল, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসন তা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *