মারণ ইবোলার ছোবলে কাঁপছে কঙ্গো, মৃত্যু ৬৫ জনের, আক্রান্তের সংখ্যা ২০০ পার

আফ্রিকায় আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস। মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) এই ভাইরাসের তাণ্ডবে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, দেশটিতে ইবোলার আঘাতে ইতিমধ্যেই ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ, যাদের মধ্যে শতাধিক রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই রোগীরা বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে ব্যাপক হারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করেছে কঙ্গো প্রশাসন। তবে পরীক্ষার প্রাথমিক যে রিপোর্ট সামনে আসছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে পরীক্ষা করা প্রতি ২০ জনের মধ্যে অন্তত ১৩ জনের শরীরেই ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি মিলছে। সংক্রমণের এই উচ্চ হার দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে।
সংক্রমণের কারণ ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার উৎস
বিশেষজ্ঞদের মতে, কঙ্গোর বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকা এবং দুর্বল স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর কারণেই এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের শারীরিক তরল বা রক্তের সংস্পর্শে আসা এবং সংক্রমিত পশুর মাংস খাওয়ার মাধ্যমে মূলত এই রোগ ছড়ায়। পাশাপাশি, প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে প্রাথমিক পর্যায়ে উপসর্গ শনাক্ত করতে দেরি হওয়া এবং কোয়ারেন্টাইনের উপযুক্ত ব্যবস্থার অভাব এই মারণ ভাইরাসের তাণ্ডবকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
এই মহামারির জেরে কঙ্গোর ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সংক্রমণের গতি এভাবে বাড়তে থাকলে হাসপাতালে শয্যা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দেবে। এছাড়া, ভাইরাসের বিস্তার রোধে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে যাতায়াত নিষেধাজ্ঞা বা লকডাউন জারি করা হলে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক মহল যদি দ্রুত কঙ্গোর পাশে না দাঁড়ায়, তবে এই সংক্রমণ প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে আঞ্চলিক স্বাস্থ্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।