বাংলায় হাইস্পিডে ছুটছে ডবল ইঞ্জিন, তিন রেল প্রকল্পে সবুজ সংকেত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি রেলমন্ত্রীর

বাংলায় হাইস্পিডে ছুটছে ডবল ইঞ্জিন, তিন রেল প্রকল্পে সবুজ সংকেত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি রেলমন্ত্রীর

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কেন্দ্রের মতো পশ্চিমবঙ্গেও এখন বিজেপি নেতৃত্বাধীন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। আর নতুন সরকার গঠনের প্রথম সপ্তাহেই রাজ্যের রেল পরিকাঠামোয় বড়সড় উপহার দিল কেন্দ্র। উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে জঙ্গলমহল ও পশ্চিমাঞ্চলের রেলের সামগ্রিক উন্নয়নে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে রেলমন্ত্রক। তিনটি পৃথক চিঠি পাঠিয়ে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এই প্রকল্পগুলির অনুমোদন প্রক্রিয়ায় গতি আনতে রাজ্য বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনার সূত্র কাজ করেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন রেলমন্ত্রী।

উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমাঞ্চলে রেলের ভোলবদল

অনুমোদিত প্রকল্পগুলির মধ্যে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত ৭.১৫ কিলোমিটার নতুন রেললাইন প্রকল্পের ডবল লাইনের কাজের অনুমোদন দিয়েছে রেলমন্ত্রক। এর ফলে উত্তরবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে ট্রেন পরিষেবার গতি ও সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

অন্য দিকে, পশ্চিমাঞ্চল ও জঙ্গলমহলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে চাঙ্গা করতে দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা শালবনি থেকে আঁড়া পর্যন্ত প্রায় ১০৭ কিলোমিটার রেললাইন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই শাখায় তৃতীয় রেললাইন তৈরি হলে যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশাপাশি মালগাড়ি চলাচল অনেক বেশি নির্বিঘ্ন ও দ্রুতগতির হবে।

আন্তঃরাজ্য যোগাযোগে নতুন এক্সপ্রেস

যোগাযোগ ব্যবস্থার এই মহাপরিকল্পনায় শুধু রাজ্যের অভ্যন্তরেই নয়, আন্তঃরাজ্য সংযোগেও বড় ঘোষণা করেছে রেলমন্ত্রক। সাঁতরাগাছি থেকে খড়গপুর হয়ে রাজস্থানের জয়পুর পর্যন্ত একটি নতুন এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ ও রাজস্থানের মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্পগুলি চালু করার মূল কারণ হলো রাজ্যের শিল্প, ব্যবসা এবং পর্যটন খাতের গতি ত্বরান্বিত করা। শালবনি-আঁড়া রুটে তৃতীয় লাইনের ফলে শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুই-ই কমবে। পাশাপাশি, জয়পুরগামী নতুন এক্সপ্রেস ট্রেনের কারণে রাজস্থান ও বাংলার মধ্যে পর্যটন, ব্যবসা এবং কর্মসূত্রে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকার গঠনের পরপরই এই দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে আগামী দিনে রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে কেন্দ্র ও রাজ্য সমন্বিতভাবে কাজ করতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *