ডিনার টেবিলেই লুকিয়ে তিলোত্তমা-কাণ্ডের রহস্য? বিস্ফোরক দাবি মায়ের

ডিনার টেবিলেই লুকিয়ে তিলোত্তমা-কাণ্ডের রহস্য? বিস্ফোরক দাবি মায়ের

আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে ফের বড়সড় পদক্ষেপের পর শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যের প্রশাসনিক ও পুলিশ মহলে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাংবাদিক বৈঠকের পর এই ঘটনা এক অভূতপূর্ব গতি পেয়েছে। তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলসহ তিন হেভিওয়েট আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করার পর এবার ঘটনার নেপথ্যে থাকা অন্যান্যদের গ্রেফতারির দাবি জোরালো হচ্ছে।

বাকি চারজনকে গ্রেফতারির দাবি তিলোত্তমার মায়ের

ফাইল খোলার এই আবহে নতুন করে মুখ খুলেছেন তিলোত্তমার মা। তাঁর দাবি, ঘটনার রাতে একটি সুরক্ষিত জায়গায় তাঁর মেয়ের সঙ্গে যে চারজন একসঙ্গে নৈশভোজ করেছিলেন, তাঁদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা প্রয়োজন। তিলোত্তমার মায়ের স্পষ্ট বক্তব্য, ওই চারজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই ঘটনার আসল সত্য এবং সম্পূর্ণ রহস্যের সমাধান সম্ভব। এই বয়ান আগামী দিনে তদন্তকারীদের ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক মহলে ধাক্কা ও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, বিনীত গোয়েল (তৎকালীন পুলিশ কমিশনার), ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় (তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল) এবং অভিষেক গুপ্তকে (তৎকালীন ডিসি নর্থ) সাসপেন্ড করা হয়েছে। প্রশাসনিক এই কড়া পদক্ষেপের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আইনি চাপ বাড়ছে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরও। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সময়ে অফিসারদের সঙ্গে কার কী কথা হয়েছিল, কল রেকর্ড এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট খতিয়ে দেখে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হবে।

আন্দোলনকারীদের প্রতিক্রিয়া ও আগামী প্রভাব

সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ কিঞ্জল নন্দ। তাঁর মতে, ঘটনার শুরু থেকেই পুরো বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার বা গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার যে আশঙ্কা তাঁরা প্রকাশ করেছিলেন, তা এখন ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। পুলিশের শীর্ষ স্তরের এই সাসপেনশন এবং তদন্তের নতুন গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও আইনি বিচার প্রক্রিয়ায় এক বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *