বিধানসভায় নাম না করে অভিষেককে তীব্র আক্রমণ তাপসের, শাপমুক্তির দাবিতে সরগরম রাজ্য রাজনীতি

নতুন স্পিকার নির্বাচনের পর বিধানসভার অধিবেশন কক্ষেই শুরু হয়ে গেল রাজনৈতিক তরজা। শুক্রবার স্পিকার নির্বাচনের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তীব্র নিশানা করলেন মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। রাজ্য রাজনীতিতে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই দলবদলু এই নেতার আক্রমণাত্মক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভার অন্দরমহল। শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই বাগযুদ্ধ আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ধর্মযুদ্ধ ও শাপমুক্তির দাবি
শুক্রবার বিধানসভায় বিজেপির রথীন্দ্র বসু স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর বক্তব্য রাখছিলেন বিভিন্ন দলের বিধায়করা। সেখানেই নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুরু থেকেই তৃণমূলকে আক্রমণ করেন তাপস রায়। তৃণমূল বিধায়কদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এবার দেখতে খারাপ লাগছে কি না। এই নির্বাচনকে কেবল সরকার গড়ার লড়াই নয়, বরং একটি ‘ধর্মযুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে জয়ী বিধায়কদের অভিনন্দন জানান তিনি। বিদায়ী সরকারকে তোপ দেগে তাঁর দাবি, এবার পশ্চিমবঙ্গ পুরোপুরি শাপমুক্ত, পাপমুক্ত ও ভয়মুক্ত হয়েছে। একইসঙ্গে বিধানসভায় যাতে কোনো দেশবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান না দেওয়া হয়, তার জন্য স্পিকারের কাছে বিল এনে আইন করার আর্জি জানান তিনি, যা সমর্থন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
জনগণ ও তৃণমূলই ব্যবস্থা করবে
বক্তব্যের একপর্যায়ে নাম না করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরোনো কিছু মন্তব্যের কড়া জবাব দেন তাপস রায়। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, আগে বিজেপি প্রার্থীদের হাড়গোড় ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই নেতার উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, বিজেপি তাঁর কিছু করবে না, তাঁর ব্যবস্থা জনগণ এবং খোদ তৃণমূলের লোকজনই করবে। এই মন্তব্য ঘিরে তৃণমূল বিধায়করা সদনে তুমুল শোরগোল শুরু করলে তিনি সাফ জানান, তিনি কারও নাম নেননি।
ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তোপ
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন মানিকতলার বিধায়ক। তাঁর দাবি, তৃণমূল যদি এবার ক্ষমতায় ফিরে আসত, তবে অন্তত ১৫০ জন বিজেপি কর্মীর লাশ গুনতে হতো এবং লক্ষ লক্ষ সমর্থককে ঘরছাড়া হতে হতো। অতীতে তৃণমূলের টিকিটে জেতা এই বিধায়ক নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী কোনো হিংসার সাথে তিনি জড়িত ছিলেন না। যদি তাঁর নাম থাকে, তবে তাঁকে যেন জেলে পাঠানো হয়। পরিশেষে ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘ভারত মাতার জয়’ ধ্বনি দিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন, যা স্পষ্ট করে দেয় যে রাজ্যে ক্ষমতার সমীকরণ বদলালেও দুই শিবিরের সংঘাতের তীব্রতা এখনই কমছে না।