চিনের দেওয়া উপহার ডাস্টবিনে ফেলে এলেন ট্রাম্প! এয়ারপোর্টে যা ঘটল, জানলে চমকে উঠবেন

চিনের দেওয়া উপহার ডাস্টবিনে ফেলে এলেন ট্রাম্প! এয়ারপোর্টে যা ঘটল, জানলে চমকে উঠবেন

তিন দিনের চীন সফর শেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে এই সাক্ষাৎকে ট্রাম্প ‘ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ’ বলে অভিহিত করলেও, সফরের শেষ মুহূর্তে এক নজিরবিহীন ও চমকপ্রদ ঘটনা ঘটেছে। সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি ও তথ্য চুরির আশঙ্কায় ট্রাম্পের প্রতিনিধি দল ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে ওঠার আগে চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া সমস্ত উপহার ও অফিশিয়াল সামগ্রী ডাস্টবিনে ফেলে ধ্বংস করে দিয়েছে। এমনকি বেশ কিছু উপহার তারা চীনেই ফেলে এসেছেন।

হোয়াইট হাউস প্রেস পুলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেইজিং ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমানের সিঁড়ির পাশে একটি বড় ডাস্টবিন রাখা হয়েছিল। বিমানে ওঠার ঠিক আগে মার্কিন কর্মকর্তা, নিরাপত্তা কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা চীন সরকারের দেওয়া প্রেস ক্রেডেন্সিয়াল (পরিচয়পত্র), প্রতিনিধি দলের বিশেষ পিন এবং সফরের সময় ব্যবহৃত ‘বার্নার ফোন’ (অস্থায়ী ফোন) সেই ডাস্টবিনে ফেলে দেন। এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নিউইয়র্ক পোস্টের সাংবাদিক এমিলি গুডিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, চীন থেকে পাওয়া কোনো জিনিসই মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমানে তোলার অনুমতি ছিল না।

গুপ্তচরবৃত্তির আতঙ্ক ও কারণ

বিশ্লেষকদের মতে, এই চরম পদক্ষেপের মূল কারণ হলো চীনের উন্নত সাইবার প্রযুক্তি এবং তথ্য চুরির গভীর আশঙ্কা। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, চীন থেকে দেওয়া ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ফোন বা স্মারক চিহ্নের মধ্যে আধুনিক ট্র্যাকিং চিপ বা আড়িপাতার প্রযুক্তি লুকানো থাকতে পারে। এর মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসনের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য বেইজিংয়ের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি এড়াতেই ওয়াশিংটন এই কঠোর প্রোটোকল মেনে চলেছে।

নিরাপত্তা কর্মীদের সংঘাত ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই সফরের সময় কেবল উপহার ফেলে দেওয়াই নয়, দুই দেশের নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যেও তীব্র উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় হোয়াইট হাউসের কর্মীদের ধাক্কা দিয়ে চীনা সাংবাদিকদের এগিয়ে যাওয়া এবং বেইজিংয়ের ‘টেম্পল অফ হেভেন’ চত্বরে অস্ত্র বহনের দায়ে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টকে প্রবেশে বাধা দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বিতর্ক হয়।

প্রেসিডেন্টদের বৈঠক ইতিবাচক দাবি করা হলেও, বিমানবন্দরে উপহার ধ্বংস এবং মাঠপর্যায়ের এই সংঘাত প্রমাণ করে যে দুই পরাশক্তির মধ্যকার অনাস্থা কতটা প্রকট। বাণিজ্য ঘাটতি, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা, তাইওয়ান এবং ইরান ইস্যুতে দুই দেশের গভীর মতবিরোধ ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ আগামী দিনে আরও জটিল রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *