মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নতুন মোড়, পাকিস্তানে হতাশ ইরান! ভারতের কাছে ঠিক কী আর্জি?

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নতুন মোড়, পাকিস্তানে হতাশ ইরান! ভারতের কাছে ঠিক কী আর্জি?

দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে বড়সড় ভূরাজনৈতিক সমীকরণ সামনে এল। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের আবহে এবার ভারতের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার ওপর ভরসা প্রকাশ করল ইরান। দিল্লির এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে যোগ দিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাকচি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট মোকাবিলায় প্রতিবেশী পাকিস্তানের ভূমিকায় তারা চরম হতাশ। এই পরিস্থিতিতে সংঘাতের স্থায়ী অবসানের জন্য নয়া দিল্লি যাতে সরাসরি কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, সেই আর্জি জানিয়েছেন তিনি। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে এই বার্তা দেন ইরানি বিদেশমন্ত্রী।

পাকিস্তানের ব্যর্থতা ও আরবের ভূমিকা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকেই মধ্যস্থতার ময়দানে নেমেছিল পাকিস্তান। ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিক বৈঠকও করা হয়। খোদ পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিফ মুনির বিভিন্ন দেশ সফর করে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালান। কিন্তু সেই সমস্ত প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনা এখন অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। এই ব্যর্থতার পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনেও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এর জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহীকে দায়ী করে ইরান খানিকটা হুঁশিয়ারির সুরেই মনে করিয়ে দিয়েছে যে, প্রতিবেশী হিসেবে কেউ নিজের ভৌগোলিক অবস্থান বদলে ফেলতে পারে না।

সুরক্ষিত বাণিজ্য ও চাবাহার বন্দরের ভবিষ্যৎ

কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে বড় আশ্বাস দিয়েছে ইরান। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন আরাকচি। সংঘাতের মধ্যেও ইতিমধ্যেই ১৩টি ভারতীয় জাহাজ ওই পথ দিয়ে নিরাপদেই যাতায়াত করেছে। অন্যদিকে, ভারতের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় গড়ে ওঠা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর নিয়েও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে তেহরান। বর্তমানে এই বন্দরের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও, এটি চালু হলে ভারত ও ইরানের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক ‘স্বর্ণদুয়ার’ খুলে যাবে বলে মনে করছে দুই দেশই।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ভারতের সম্ভাব্য প্রভাব

নয়া দিল্লি বরাবরই আলোচনার মাধ্যমে শান্তির পক্ষে সওয়াল করলেও, মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এখনো সরাসরি কোনো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইরান ও আমেরিকার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ফোনে কথা বলে সংযম বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন মাত্র। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের এই সরাসরি আর্জি ভারতের ওপর কূটনৈতিক চাপ ও গুরুত্ব দুই-ই বাড়িয়ে দিল। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শক্তি এবং গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর হিসেবে ভারত যদি এই দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে আসে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দিল্লির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *