দিল্লির দরবারে কি এবার ভারী হবে বাংলার ওজন, মে মাসের বৈঠকেই মিলবে ইঙ্গিত

পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সাম্প্রতিক সাফল্যের পর এবার দিল্লির রাজনৈতিক মহলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ২০০-র বেশি আসন পেয়ে বিজেপির অভাবনীয় জয় এবং শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। দিল্লির অলিন্দে এখন একটাই প্রশ্ন, প্রতিমন্ত্রী নয়, এবার কি তবে কেন্দ্র পাবে বাংলার কোনো পূর্ণ মন্ত্রী?
এই রাজনৈতিক আবহের মাঝেই আগামী ২১ মে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা হিসেবে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ও তার জেরে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক সংকটকে সামনে রাখা হলেও, এর ভেতরেই লুকিয়ে রয়েছে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বড় সমীকরণ।
কাজের খতিয়ান মূল্যায়ন ও রদবদলের সম্ভাবনা
সূত্রের খবর, বৈঠকে একাধিক মন্ত্রক এবং দফতরকে গত দুই বছরের কাজের খতিয়ান প্রেজেন্টেশন আকারে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী সরকারের অতীত রেকর্ড বলছে, পারফরম্যান্স রিভিউ বা কাজের মূল্যায়নের পরেই ব্যর্থ মন্ত্রীদের বাদ দিয়ে নতুন ও দক্ষ মুখদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এবারের বৈঠকেও মন্ত্রীদের বিগত কয়েক বছরের কাজের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। যার ভিত্তিতে আগামী জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে, সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদল বা সম্প্রসারণ হতে পারে।
বাংলার গুরুত্ব বৃদ্ধি ও নতুন সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের রদবদলে পশ্চিমবঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে। রাজ্যে ঐতিহাসিক জয়ের পুরস্কার হিসেবে বাংলা থেকে এক বা একাধিক সাংসদকে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। একই সঙ্গে বিহার ও মহারাষ্ট্রের শরিক দলগুলির মন রক্ষার্থে তাদের সাংসদদেরও মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, নারীশক্তির ক্ষমতায়ন ও মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবারের সম্প্রসারণে একাধিক নতুন মহিলা মুখকে অন্তর্ভুক্ত করার ইঙ্গিত রয়েছে। ২১ মে-র এই বৈঠকটি মূলত সরকারের কাজের পর্যালোচনার জন্য হলেও, এটি যে আগামী দিনে দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে বাংলার শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে, তা বলাই বাহুল্য।