হুমকি ও রাজনৈতিক হিংসার দিন শেষ, ফলতায় পুলিশ হাত খুলতেই গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সইদুল!

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বড়সড় পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। ফলতায় পুনর্নির্বাচনের ঠিক পাঁচদিন আগে গ্রেফতার করা হয়েছে দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা তথা ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সইদুল খানকে। ধৃত সইদুল অপর এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। শুক্রবার গভীর রাতে ফলতা থানার পুলিশ তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, হুমকি এবং এলাকায় রাজনৈতিক হিংসা ছড়ানোর একাধিক গুরুতর অভিযোগ থাকলেও এতদিন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি বলে জানা গেছে।
গ্রেফতারির নেপথ্য কারণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সইদুল খানের বিরুদ্ধে এলাকায় সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়া এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করার একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়ছিল। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর পুলিশ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় থমকে থাকা তদন্তের গতি বৃদ্ধি পায়। আগামী ২১ মে ফলতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং ২৪ মে এর ফলাফল ঘোষণা। এই স্পর্শকাতর নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই পুলিশ এই তৎপরতা দেখিয়েছে।
রাজনৈতিক পরিবেশ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বিজেপি ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে প্রশাসন সমাজবিরোধী ও দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করেছে। এই গ্রেফতারির ফলে ফলতা অঞ্চলে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি বড়সড় ধাক্কা খেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে, ১৯ মে ফলতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রোড শো এবং কর্মীসভা রয়েছে। তাঁর এই সফরের ঠিক আগে সইদুলের মতো হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারি বিরোধী শিবিরের মনোবল যেমন বৃদ্ধি করবে, তেমনই সাধারণ ভোটারদের মনেও পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনবে।