সন্তান মানুষ করতে খরচ ৭ কোটি! শুনে চমকে উঠছেন অভিভাবকরাও, সামনে এল অঙ্ক

ভারতের বড় শহরগুলোতে একটি সন্তানকে বড় করে তোলার ব্যয়ভার সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে এই বিষয়ে একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করে হইচই ফেলে দিয়েছেন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা তথা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর উদয়ন আধ্যে। তাঁর দাবি, বর্তমান বাজারদরের হিসাবে ভারতের মেট্রো শহরগুলোতে একটি মাত্র সন্তানকে লালন-পালন করতে অভিভাবকদের প্রায় ৬.৭৫ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। মুম্বই, দিল্লি, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু এমনকি কলকাতার মতো মেগাসিটিতেও প্রতিপালনের বিপুল ব্যয় নিয়ে তাঁর এই গাণিতিক বিশ্লেষণ দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিয়েছে।
শিক্ষা ও জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া ব্যয়
উদয়ন আধ্যের মতে, অধিকাংশ অভিভাবকই আধুনিক যুগে সন্তান প্রতিপালনের প্রকৃত খরচ আগে থেকে সঠিকভাবে অনুমান করতে পারেন না। নিজের দাবির সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি জানান, স্কুল এবং কলেজের পড়াশোনার খরচ প্রতি বছর প্রায় ১০-১২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে প্রতি ৬ বছরে শিক্ষার ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে চার বছরের সাধারণ কলেজ শিক্ষার খরচ যেখানে ২০ লক্ষ টাকা, সেটি ১৮ বছর পর মূল্যস্ফীতির কারণে ১.৬ থেকে ২ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকবে। এছাড়া ২১ বছর বয়স পর্যন্ত স্কুলের বেতন, খেলাধুলা, বিভিন্ন কোচিং ক্লাস, প্রযুক্তিযুক্ত আধুনিক খেলনা বা গ্যাজেট, চিকিৎসা এবং ছুটি কাটানোর মতো আনুষঙ্গিক জীবনযাত্রার খরচ যুক্ত হয়ে এই টাকার অঙ্ক প্রায় পৌনে সাত কোটিতে পৌঁছায়। স্নাতকোত্তরের পড়াশোনা যুক্ত হলে এই ব্যয়ের পরিধি আরও বেড়ে যায়।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সামাজিক উদ্বেগ
এই আর্থিক বিশ্লেষণের ফলে সমাজমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই বিপুল খরচের আশঙ্কায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সন্তানধারণের সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যাওয়ার বা বিলম্ব করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের ডেমোগ্রাফিক বা জনসংখ্যার ভারসাম্যে প্রভাব ফেলবে। অনেকেই মনে করছেন, প্রথাগত সঞ্চয় বা সাধারণ আর্থিক পণ্যগুলো যেখানে মাত্র ৫-৬ শতাংশ রিটার্ন দেয়, সেখানে এই আকাশছোঁয়া খরচ মেটাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষা ঋণ বা চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হবে। তবে নেটাগরিকদের একাংশের দাবি, এই হিসাব কেবল উচ্চবিত্ত বা মেট্রো শহরের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য প্রযোজ্য এবং এটি সাধারণ মানুষের মনে অযথা ভীতি ও উদ্বেগ ছড়াচ্ছে।