NEET পেপার ফাঁসে এবার জালে বায়োলজি শিক্ষিকা! সন্দেহের তির সরাসরি NTA কর্তাদের দিকে

মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এবার সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়লেন বায়োলজির প্রবীণ শিক্ষিকা মনীষা গুরুনাথ মাণ্ডহরে। কেমিস্ট্রির লেকচারার পিভি কুলকার্নির পর পুনের এই শিক্ষিকার গ্রেফতারি তদন্তে এক বিরাট মোড় এনে দিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত এই দুই শিক্ষক মণীষা বাঘমারে নামের এক মহিলার বাড়িতে বিশেষ ক্লাস নিয়ে পরীক্ষার্থীদের বোটানি, জুলজি এবং কেমিস্ট্রির হুবহু সেইসব প্রশ্ন ও উত্তর মুখস্থ করিয়েছিলেন, যা পরীক্ষায় এসেছিল। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’ বা এনটিএ (NTA)-র শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভূমিকা গভীর সন্দেহের আবর্তে পড়েছে।
প্রশ্ন ফাঁসের নেপথ্যে এনটিএ যোগ
সিবিআই আধিকারিকদের মতে, নিট পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র কেমন হবে তা এনটিএ-র মাত্র কয়েকজন শীর্ষ কর্তাই জানেন। নিয়ম অনুযায়ী, সারা দেশ থেকে শতাধিক শিক্ষকের তৈরি করা প্রশ্নের মিশ্রণে চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র তৈরি হয়, যার ফলে কোনো একক শিক্ষকের পক্ষে পুরো প্রশ্ন জানা আসাম্ভব। কিন্তু কুলকার্নি ও মাণ্ডহরের কাছে কেমিস্ট্রি ও বায়োলজির সব প্রশ্ন আগে থেকেই ছিল। উদ্ভিদবিদ্যার শিক্ষিকা হওয়া সত্ত্বেও মনীষা মাণ্ডহরে যেভাবে প্রাণিবিদ্যার (জুলজি) প্রশ্নও শিক্ষার্থীদের বলে দিয়েছিলেন, তাতে স্পষ্ট যে এনটিএ-র ভেতর থেকেই কেউ এই প্রশ্ন বাইরে পাচার করেছে। এই দুই শিক্ষককে কার নির্দেশে প্রশ্ন তৈরির কমিটিতে রাখা হয়েছিল, এখন তা খতিয়ে দেখছে সিবিআই।
পুনে থেকে জয়পুর এবং সমাজমাধ্যম
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই চক্রটি পুনে, নাসিক, গুরুগ্রাম হয়ে রাজস্থানের জয়পুর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। পুনেতে সংগৃহীত ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে ভালো সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির নিশ্চয়তা দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। পরীক্ষা পাশের জন্য প্রয়োজনীয় অন্তত ৬০০ নম্বর নিশ্চিত করতে ১৮০টি প্রশ্নের মধ্যে ১৪০টি প্রশ্ন আগেই ফাঁস করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর সেই হাতে লেখা প্রশ্নপত্রের পিডিএফ তৈরি করে হোয়াটস্যাপ এবং টেলিগ্রামের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। জয়পুরের এক ব্যক্তির হাত ধরে শেষ মুহূর্তে এটি সমাজমাধ্যমে ‘সাজেস্টভ পেপার’ হিসেবে ভাইরাল হতেই পুরো জালিয়াতি ফাঁস হয়ে যায় এবং পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
এক ঝলকে
- নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেমিস্ট্রির পর এবার পুনের বায়োলজি শিক্ষিকা মনীষা গুরুনাথ মাণ্ডহরেকে গ্রেফতার করল সিবিআই।
- পরীক্ষার্থীদের ১৮০টি প্রশ্নের মধ্যে ১৪০টি প্রশ্ন পরীক্ষার আগেই মুখস্থ করিয়ে প্রায় ৬০০ নম্বর পাইয়ে দেওয়ার গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছিল।
- চূড়ান্ত প্রশ্নপত্রের গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার পেছনে এনটিএ (NTA)-র শীর্ষ কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলে জোরালো সন্দেহ করা হচ্ছে।
- পুনে থেকে শুরু হওয়া এই চক্রের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রটি সমাজমাধ্যমের বিভিন্ন চ্যানেলে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়।