তলোয়ার উঁচিয়ে নারী আইনজীবীর ওপর বর্বর হামলা, দিল্লির আইনশৃঙ্খলা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট!

রাজধানী দিল্লির কড়কড়ডুমা জেলা আদালতের এক নারী আইনজীবীর ওপর তাঁর স্বামী কর্তৃক তলোয়ার নিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে বর্বর ও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি পুলিশকে এই নৃশংস হামলার তদন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। একই সাথে ভুক্তভোগী নারী এবং তাঁর সন্তানদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীন হতে হবে।
পারিবারিক বিবাদ ও চিকিৎসার গাফিলতি
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল সোনিয়া বিহার এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে মনোজ কুমার নামের এক ব্যক্তি তাঁর আইনজীবী স্ত্রীর ওপর তলোয়ার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অভিযুক্ত স্বামীকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হলেও এই ঘটনার পর দিল্লির চিকিৎসা ব্যবস্থার এক মারাত্মক ও অমানবিক চিত্র সামনে এসেছে। রক্তাক্ত ও গুরুতর জগতজ্যোতি অবস্থায় ওই নারীকে পর পর চারটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনটি হাসপাতাল তাঁকে ভর্তি নিতে অস্বীকার করে এবং একটি হাসপাতাল কেবল প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব সারে। সুপ্রিম কোর্ট হাসপাতালগুলোর এই চরম অবহেলা ও অসংবেদনশীলতাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে এবং এই চার হাসপাতালের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে নিবিড় তদন্ত করে আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
শিশুদের দায়িত্ব ও পুনর্বাসনের নির্দেশ
আদালতের হস্তক্ষেপে ভুক্তভোগী নারী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাঁর চার ও এক বছর বয়সী দুই কন্যাসন্তানকে মায়ের জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে দিল্লির শিক্ষা দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে দুই শিশুর প্লে-স্কুল থেকে শুরু করে নিয়মিত স্কুলের পড়াশোনা, বইখাতা, ইউনিফর্ম এবং যাতায়াতসহ সমস্ত খরচ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বহন করা হয়। একই সাথে দিল্লির রাজ্য সরকারের নীতি অনুযায়ী শিশুদের জন্য আর্থিক অনুদান বা বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এই সংকটের মুহূর্তে ভুক্তভোগীর চিকিৎসা ও শিশুদের তাৎক্ষণিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ‘নালসা’ (NALSA)-কে তিন লাখ টাকার অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক ঝলকে
- দিল্লির সোনিয়া বিহারে পারিবারিক বিবাদের জেরে এক নারী আইনজীবীকে তাঁর স্বামী তলোয়ার দিয়ে নৃশংসভাবে কোপায়, অভিযুক্ত স্বামী বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।
- গুরুতর আহত ওই আইনজীবীকে ভর্তি না নিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ায় দিল্লির চারটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভুক্তভোগী মাকে তাঁর দুই শিশুকন্যার কস্টডি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পড়াশোনার সমস্ত খরচ বহন করবে দিল্লি সরকার।
- ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারের সুরক্ষায় ৩ লাখ টাকার অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করেছে আদালত।