“সবকিছু হারাতে হতে পারে!” জ্বালানি সংকট নিয়ে বিশ্বকে মোদীর চরম হুঁশিয়ারি

“সবকিছু হারাতে হতে পারে!” জ্বালানি সংকট নিয়ে বিশ্বকে মোদীর চরম হুঁশিয়ারি

বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে তীব্র জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নেদারল্যান্ডসের হেগে প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায়ের এক অনুষ্ঠানে তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে বিগত কয়েক দশকের উন্নয়নমূলক অগ্রগতি সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে। এই সংকটের কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষ আবারও চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারেন বলে তিনি আন্তর্জাতিক মহলকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই নতুন যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ায় এই দশকটি গোটা বিশ্বের জন্য একটি বিপর্যয়ের দশকে পরিণত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতা ও জ্বালানির আকাশছোঁয়া মূল্য বিশ্বের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট করেছেন যে, এই পরিস্থিতির সময়োপযোগী সমাধান না হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৈশ্বিক সংকটের মাঝে ভারতের প্রযুক্তিগত উত্থান

আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই উদ্বেগের কথা শোনানোর পাশাপাশি বিগত এক দশকে প্রযুক্তি, স্টার্টআপ এবং ডিজিটাল পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ভারতের অভূতপূর্ব সাফল্যের খতিয়ানও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এক দশক আগেও ভারত যেখানে মোবাইল ফোন আমদানি করত, আজ দেশটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যবর্তী দূরত্বের চেয়েও ১১ গুণ বেশি অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপন করে ভারত ডিজিটাল লেনদেন ও গণপরিবহণ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।

স্টার্টআপ ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে ঐতিহাসিক বিপ্লব

বর্তমানে ভারত বিশ্বমঞ্চে ‘উদ্ভাবনের এক শক্তিঘর’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। বারো বছর আগে দেশে যেখানে ৫০০-র কম স্টার্টআপ ছিল, আজ তা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লক্ষ ছাড়িয়েছে এবং ইউনিকর্ন স্টার্টআপের সংখ্যা ৪টি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজারে। এর পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর খাতেও দেশ এক ঐতিহাসিক বিপ্লবের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। বর্তমানে ভারতে ১২টি সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যার মধ্যে দুটিতে ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে।

এক ঝলকে

  • বৈশ্বিক যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ নতুন করে চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
  • পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে বিগত কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্পূর্ণ স্তব্ধ হতে পারে।
  • আমদানিকারী দেশ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে।
  • দেশে স্টার্টআপের সংখ্যা ২ লক্ষ এবং ইউনিকর্নের সংখ্যা ১ লক্ষ ২৫ হাজার ছাড়িয়ে প্রযুক্তি খাতে এক বিশাল জোয়ার এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *