“আজ নয়তো কাল, ওয়াইসিও নিজেকে হিন্দু বলবেন!” ভোজশালা রায়ে গদগদ গিরিরাজ

মধ্যপ্রদেশের ধর জেলায় অবস্থিত বিতর্কিত ভোজশালা চত্বরকে দেবী সরস্বতীর মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগের (এএসআই) ২০০৩ সালের সেই আদেশটি বাতিল করে দিয়েছে, যার মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রতি শুক্রবার সেখানে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ের পর দীর্ঘদিনের এই ধর্মীয় ও আইনি বিবাদ এক নতুন মোড় নিল। প্রাচীন ঐতিহাসিক তথ্য, এএসআই-এর বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা এবং পূর্ববর্তী আইনি নজির বিবেচনা করেই ইন্দোর বেঞ্চ এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
রায়ের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ গিরিরাজ সিং এই রায়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসিকে লক্ষ্য করে কটাক্ষ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, আজ না হোক কাল, ওয়াইসিও নিজেকে হিন্দু বলে স্বীকার করবেন। অন্যদিকে, এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করে আসাদুদ্দিন ওয়াইসি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই ঘটনাটি বাবলি মসজিদ মামলার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে এই আদেশ বাতিলের আশা প্রকাশ করেছেন এবং ১৯৯১ সালের ‘উপাসনালয় আইন’ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
আদালত স্পষ্ট করেছে যে, পারমার রাজবংশের রাজা ভোজের সময়কাল থেকেই এই স্থানটি একটি সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র ও দেবী সরস্বতীর মন্দির হিসেবে বিদ্যমান ছিল, যেখানে হিন্দুদের পূজার ধারাবাহিকতা কখনই শেষ হয়নি। এই রায়ের ফলে মুসলিম পক্ষ সেখানে নামাজের অধিকার হারালেও, আদালত রাজ্য সরকারকে জানিয়েছে যে তারা চাইলে মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য বিকল্প জমির আবেদন করতে পারে। এছাড়া, ব্রিটিশ মিউজিয়ামে থাকা বাগদেবীর প্রাচীন মূর্তিটি ভারতে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কেন্দ্র সরকারকে বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, আইনি লড়াই আরও জোরদার করতে হিন্দু পক্ষ ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে একটি ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে, যাতে তাদের বক্তব্য না শুনে কোনো একতরফা স্থগিতাদেশ দেওয়া না হয়।
এক ঝলকে
- মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট বিতর্কিত ভোজশালা চত্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেবী সরস্বতীর মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেছে।
- ২০০৩ সালের এএসআই-এর আদেশ বাতিল করে সেখানে প্রতি শুক্রবার মুসলিমদের নামাজ পড়ার অধিকার প্রত্যাহার করা হয়েছে।
- এই রায়কে কেন্দ্র করে গিরিরাজ সিং ও আসাদুদ্দিন ওয়াইসির মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
- মুসলিম পক্ষ সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং হিন্দু পক্ষ আগাম সতর্কতা হিসেবে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে।