“হাসপাতালের মতো ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকুক আদালত, তবেই কমবে সাধারণ মানুষের কষ্ট!” বড় বার্তা প্রধান বিচারপতির

ভারতের বিচার ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ডাক দিলেন দেশের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সূর্যকান্ত। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি সাফ জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের আইনি জটিলতা ও কষ্ট দূর করতে এবার হাসপাতালগুলোর মতো দেশের আদালতকেও চব্বিশ ঘণ্টা (২৪x৭) সচল রাখার সময় এসেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি, যা বিচার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও আমজনতার জন্য সহজলভ্য করে তুলবে।
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কমবে সময়ের অপচয়
প্রধান বিচারপতি তাঁর বক্তব্যে বিচার ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, আইনি প্রক্রিয়ায় সময়ের অপচয় রোধ করার একমাত্র কার্যকর উপায় হলো প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ। ১৯৯০-এর দশক থেকে শুরু হওয়া কারিগরি অগ্রগতির ধারাবাহিকতায়, ভারতীয় বিচার বিভাগ এখন সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সর্বাধুনিক এআই ডিজাইন ব্যবহার করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কোভিড আমলের শিক্ষা ও দেশব্যাপী নতুন মডেলের ভাবনা
করোনা মহামারির কঠিন দিনগুলোর কথা স্মরণ করে প্রধান বিচারপতি জানান, চরম সংকটের সময়েও ভারতীয় বিচারব্যবস্থা তার সাংবিধানিক দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যায়নি এবং প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে জরুরি মামলার শুনানি চালু রেখেছিল, যা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের তৈরি করা নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটির প্রশংসা করে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় আইন প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের পরামর্শ অনুযায়ী এই সফল প্রযুক্তিগত মডেলটি দেশব্যাপী চালু করা দরকার। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি বিশেষ কমিটি ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।
এক ঝলকে
- সাধারণ মানুষের কষ্ট ও আইনি জটিলতা দ্রুত দূর করতে হাসপাতালগুলোর মতো আদালতকেও চব্বিশ ঘণ্টা সচল রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত।
- বিচার বিভাগে সময়ের অপচয় কমাতে এবং কাজের গতি বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের তৈরি অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রশংসা করে এই মডেলটি পুরো দেশে বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
- মামলার দ্রুত শুনানির জন্য বিচার ব্যবস্থায় এআই-এর ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্ট একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে।