“ঝড়ের আগের শান্ত পরিবেশ!” ট্রাম্পের এক পোস্টেই কাঁপছে ইরান-আমেরিকা সম্পর্ক!

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নতুন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার পারদ আরও চড়তে শুরু করেছে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন, “এটি ছিল তুফান আসার আগের শান্তি।” এই বার্তার সাথে তিনি এমন একটি ছবি পোস্ট করেছেন যা ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক সংঘাতকে আরও উস্কে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল যখন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই বার্তা নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
কী রয়েছে ট্রাম্পের সেই রহস্যময় ছবিতে
পোস্ট করা ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে সামনের দিকে আঙুল উঁচিয়ে আছেন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে বা পেছনের অংশে ইরানের তিন-চারটি নৌবাহিনীর জাহাজ এবং স্পিডবোট স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানের কথা উল্লেখ না করলেও, এই ছবি এবং তাঁর লেখার সংকেত রাজনৈতিক মহলে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বৈশ্বিক তেল বাজারে বড় সংকটের পূর্বাভাস
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছবিটির পটভূমি সম্ভবত বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল সামুদ্রিক পথ ‘স্ট্রেট অব হরমুজ’। এই অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি নৌবাহিনীর যেকোনো সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ববাজারের ওপর। স্ট্রেট অব হরমুজ দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। ফলে এখানে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
এক ঝলকে
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘তুফান আসার আগের শান্তি’ লিখে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিতর্কিত পোস্ট করেছেন।
- পোস্টে ব্যবহৃত ছবিতে ট্রাম্পের মার্কিন যুদ্ধজাহাজের পেছনে ইরানের একাধিক নৌবাহিনীর বোট দেখা গেছে।
- এই পোস্টের ফলে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
- স্ট্রেট অব হরমুজ অঞ্চলে অশান্তি তৈরি হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় বিপর্যয় আসতে পারে।