মস্কোয় মহাপ্রলয়! এক দশকের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলায় কাঁপল রাশিয়া, পাল্টা মার পুতিনের!

রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও তার আশপাশের অঞ্চলে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। গত এক বছরের মধ্যে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে এটিকে সবচেয়ে বড় আকাশ আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। রাশিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘তাস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতভর চলা এই অতর্কিত হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই ড্রোন হামলায় এখন পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কমপক্ষে ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলার পরপরই মস্কো এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পাল্টা প্রতিরোধ ও ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান
ইউক্রেনের এই সাঁড়াশি আক্রমণের জবাবে রুশ প্রতিরক্ষা বাহিনীও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। রুশ সামরিক সূত্রের দাবি, ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রায় ৫০০টি ড্রোন নিয়ে এই হামলা পরিচালনা করেছিল। তবে রাশিয়ার শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত তৎপরতার সাথে কাজ করেছে এবং আকাশেই প্রায় ১২০টি ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি ড্রোনগুলোর আঘাতে আবাসিক ও কৌশলগত কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
হামলার কারণ ও দূরগামী প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই যুদ্ধে ইউক্রেন এখন রাশিয়ার অভ্যন্তরে আঘাত হেনে মস্কোকে মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে। ফ্রন্টলাইনের যুদ্ধকে রাশিয়ার একদম কেন্দ্রে নিয়ে আসাই ছিল এই নিখুঁত ও বড় মাপের ড্রোন অপারেশনের মূল লক্ষ্য।
এই হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিতে পারে। রাশিয়ার কেন্দ্রস্থলে এই ধরনের বড় আঘাতের পর ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন ইউক্রেনের ওপর আরও বিধ্বংসী ও বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সাথে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করবে এবং কৃষ্ণসাগর সংলগ্ন অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।