বিজেপির দুর্গে ধাক্কা দিতে উপনির্বাচনের ময়দানে নামছেন ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর!

বিজেপির দুর্গে ধাক্কা দিতে উপনির্বাচনের ময়দানে নামছেন ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর!

গত বিহার বিধানসভা নির্বাচনে নিজের দলের ভরাডুবির ধাক্কা সামলে উঠতে এক বড় রাজনৈতিক চাল চালতে চলেছেন ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর (পিকে)। বিহারের হাইপ্রোফাইল বাঙ্কিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে এবার তিনি নিজেই প্রার্থী হতে পারেন বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ায় এই আসনটি শূন্য হয়েছে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে ঐতিহাসিক সাফল্য এনে দেওয়ার পর, এবার পিকে নিজের ভাগ্য নির্ধারণে সরাসরি নির্বাচনী ময়দানে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে সূত্রের খবর।

বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে সরাসরি চ্যালেঞ্জ

বাঙ্কিপুর আসনটি ২০১০ সাল থেকে বিজেপির নীতীন নবীনের দখলে এবং এটি গেরুয়া শিবিরের অন্যতম প্রধান দুর্গ হিসেবে পরিচিত। গত বিধানসভা নির্বাচনেও এই আসনে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ছিল ৬২ শতাংশ, যেখানে প্রশান্ত কিশোরের জন সূরয পার্টি পেয়েছিল মাত্র ৫ শতাংশ ভোট। এমন একটি কঠিন ও প্রতিকূল আসনে পিকের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এই উপনির্বাচন মূলত বিজেপির দুর্গে জন সূরযের সাংগঠনিক শক্তির এক বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।

বিকল্প বিরোধী শক্তি হওয়ার মরিয়া চেষ্টা

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিহারের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধান বিরোধী মুখ তেজস্বী যাদব কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন এবং কংগ্রেস ও বামেদের অবস্থাও বেশ দুর্বল। এই শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে বিহারের প্রধান বিজেপি-বিরোধী বিকল্প শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতেই পিকে এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে ২৪৩টি আসনের মধ্যে ২৩৮টিতে প্রার্থী দিয়ে ২৩৬টিতেই জামানত জব্দ হয়েছিল জন সূরযের। সেই হারের গ্লানি মুছে নিজের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করাই এখন প্রশান্ত কিশোরের মূল লক্ষ্য।

এক ঝলকে

  • বিহারের বাঙ্কিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন জন সূরয পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর।
  • বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন রাজ্যসভায় যাওয়ায় শূন্য হওয়া এই আসনটি ২০১০ সাল থেকে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি।
  • গত বিধানসভা নির্বাচনে পিকের দল ২৩৮টি আসনে লড়াই করে ২৩৬টি-তেই জামানত হারিয়েছিল।
  • বিহারে বিরোধী শূন্যতার সুযোগ নিয়ে নিজেকে প্রধান বিজেপি-বিরোধী বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতেই পিকের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *