“এত অত্যাচারেও আমি ভেঙে পড়িনি, আপনারা কেন পড়ছেন?” কর্মীদের চাঙ্গা করলেন মমতা

ভোটে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না আসায় দলের নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবার নিজেই ময়দানে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার কালীঘাটে পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি কর্মীদের ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দেন। ভোট গণনার দিন নিজের ওপর হওয়া ‘অত্যাচারে’র আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, এত কিছুর পরেও তিনি নিজে যখন ভেঙে পড়েননি, তখন দলের কর্মীদেরও মনোবল হারানো চলবে না। মূলত দক্ষিণবঙ্গের জেলা পরিষদগুলোর জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন।
জনসংযোগ ও আগামী দিনের রণকৌশল
২০২৮ সালের আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এখন থেকেই ঘুঁটি সাজাতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের সবকটি জেলা পরিষদই বর্তমানে শাসকদলের দখলে থাকায়, আগামী দুটি বছরকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পঞ্চায়েতের সমস্ত জনপ্রতিনিধিকে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মানুষের পাশে থাকতে হবে এবং গ্রামীণ স্তরের উন্নয়নমূলক কাজগুলোকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। গ্রাম বাংলায় দলের একচেটিয়া ভোটব্যাংক পুনরুদ্ধার করতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় জনসংযোগ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
হিংসার প্রতিরোধ ও দলীয় কর্মসূচি
ভোট-পরবর্তী হিংসার আবহে আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোকেই এই মুহূর্তে প্রধান কাজ হিসেবে দেখছে দল। বন্ধ থাকা দলীয় কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার পাশাপাশি ব্লক এবং শহর স্তরে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের কর্মীদের ওপর হওয়া অত্যাচারের তথ্য সংগ্রহ করতে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে তিনটি ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম’ গঠন করা হয়েছে, যা বিভিন্ন জেলায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, কর্মীদের ভীতি কাটাতে এবং জনসংযোগ বাড়াতে তৃণমূল নেত্রীর নিজে হাতে পার্টি অফিস রং করার সিদ্ধান্ত আগামী দিনে গ্রামীণ রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এক ঝলকে
- ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে কর্মীদের মনোবল শক্ত করতে নিজের আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে লড়াইয়ের বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ২০২৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণবঙ্গের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কালীঘাটে জরুরি বৈঠক সম্পন্ন।
- গ্রামীণ স্তরে হারিয়ে যাওয়া জনভিত্তি ও আস্থা ফিরে পেতে নিবিড় জনসংযোগের নির্দেশ তৃণমূল নেত্রীর।
- আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে এবং তথ্য সংগ্রহ করতে তিনটি বিশেষ ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম’ গঠন করেছে তৃণমূল।