নবান্নে তুমুল তৎপরতা! মুখ্যমন্ত্রী হয়েই উত্তরবঙ্গ ও দুর্গাপুরে হাইপ্রোফাইল সফরে শুভেন্দু

নবান্নে তুমুল তৎপরতা! মুখ্যমন্ত্রী হয়েই উত্তরবঙ্গ ও দুর্গাপুরে হাইপ্রোফাইল সফরে শুভেন্দু

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর রাজ্যজুড়ে প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে কোমর বেঁধে নামলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক সভার মধ্য দিয়ে নিজের রাজ্যব্যাপী সফরের সূচনা করেছেন তিনি। এর পরপরই চলতি সপ্তাহেই উত্তরবঙ্গ ও দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে তাঁর জোড়া হাইপ্রোফাইল সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্য সচিবালয় নবান্নে তৎপরতা এখন তুঙ্গে। উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

উত্তরবঙ্গ ও শিল্পাঞ্চলে মেগা বৈঠক

আগামী ২০শে মে উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি মেগা প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দার্জিলিং, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের জেলা শাসক, পুলিশ সুপার এবং শিলিগুড়ি সিটি পুলিশের কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের উন্নয়নমূলক কাজের গতিপ্রকৃতি খতিয়ে দেখার ঠিক পরদিন, অর্থাৎ ২১শে মে মুখ্যমন্ত্রী দুর্গাপুরে রাঢ়বঙ্গের পাঁচ জেলা— পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং পূর্ব বর্ধমানের সরকারি প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে জেলা প্রশাসনগুলির সঙ্গে বৈঠক করবেন।

জনসাধারণের জন্য ‘গণআদালত’

প্রশাসনিক পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনতে এক অভিনব পদক্ষেপ করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ১লা জুন থেকে রাজ্যে চালু হতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রীর নিজস্ব ‘গণআদালত’। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও সমস্যার কথা খতিয়ে দেখতে সপ্তাহে এক বা দুই দিন, নির্দিষ্ট দুই ঘণ্টার জন্য এই প্রকাশ্য ‘জনতার আদালত’ বসাবেন শুভেন্দু অধিকারী। এই গণআদালতে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরাও উপস্থিত থাকবেন, যাতে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ও কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

উন্নয়নে গতি ও জনসংযোগের নতুন কৌশল

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফরের মূল কারণ হলো নতুন সরকার গঠনের পর গ্রাউন্ড জিরো থেকে সরকারি কাজের খতিয়ান নেওয়া এবং থমকে থাকা প্রকল্পগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়িত করা। শিল্পাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সরাসরি বার্তা দিয়ে কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চান তিনি। অন্যদিকে, জুনের শুরু থেকে প্রস্তাবিত ‘গণআদালত’ চালুর সিদ্ধান্তটি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রশাসনকে পৌঁছে দেওয়ার এবং দ্রুত জনক্ষোভ প্রশমন করার একটি বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ২০শে মে উত্তরবঙ্গ এবং ২১শে মে দুর্গাপুরে ম্যারাথন প্রশাসনিক বৈঠক করবেন শুভেন্দু অধিকারী।
  • উত্তরবঙ্গ ও রাঢ়বঙ্গের মোট ৯টি জেলার জেলা শাসক, পুলিশ সুপার ও পদস্থ কর্মকর্তাদের এই মেগা পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আগামী ১লা জুন থেকে রাজ্যে চালু হতে পারে মুখ্যমন্ত্রীর নিজস্ব ‘গণআদালত’।
  • ডায়মন্ড হারবারের পর এই জোড়া সফরকে কেন্দ্র করে নবান্নের প্রশাসনিক অন্দরে প্রস্তুতি ও তৎপরতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *