NEET পেপার লিক: এবার CBI-এর নজরে প্রশ্নপত্র কেনা ধনী অভিভাবকরাও!

NEET পেপার লিক: এবার CBI-এর নজরে প্রশ্নপত্র কেনা ধনী অভিভাবকরাও!

দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI) এবার তাদের তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের মাস্টারমাইন্ড, দালাল ও সলভার গ্যাংয়ের পর তদন্তকারীদের নজরে এসেছেন সেইসব প্রভাবশালী অভিভাবক, যারা বিপুল অর্থের বিনিময়ে নিজেদের সন্তানদের জন্য অবৈধভাবে প্রশ্নপত্র কিনেছিলেন। সিবিআইয়ের সন্দেহ, আর্থিকভাবে সচ্ছল কিছু পরিবার তাদের সন্তানদের নামী মেডিকেল কলেজে ভর্তি নিশ্চিত করতে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছে। মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই চক্রের শিকড় সন্ধানে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।

মহারাষ্ট্রে ম্যারাথন তল্লাশি ও কোরিলেশন

সম্প্রতি সিবিআইয়ের একটি আট সদস্যের দল মহারাষ্ট্রের নান্দেদ ও লাতুরের একাধিক ডেরায় আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে। নান্দেদের বিদ্যুৎ নগর এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে প্রায় আট ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালান তদন্তকারীরা। অভিযোগ উঠেছে, ওই ব্যবসায়ী তার মেয়ের জন্য পরীক্ষার আগেই ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। শুধু জিজ্ঞাসাবাদই নয়, সিবিআই ওই বাড়ি থেকে মোবাইল, ল্যাপটপ, নথিপত্র এবং কল রেকর্ডসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক তথ্যপ্রমাণ জব্দ করেছে। একই সাথে পুনের একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারের (AIB) ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যারা পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আগেই ওই ছাত্রীর সাফল্যের পোস্টার টাঙিয়েছিল।

সংগঠিত চক্রের আর্থিক লেনদেন ও প্রভাব

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রশ্ন ফাঁস চক্রটি কেবল দালালদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। পুনে, লাতুর এবং নান্দেদের মতো শহরগুলোতে ছড়িয়ে থাকা এই চক্রের মাধ্যমে বহু অভিভাবক ১০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করেছেন বলে প্রমাণ মিলছে। সিবিআই আশঙ্কা করছে, কিছু অভিভাবক নিজের খরচ তুলতে সংগৃহীত প্রশ্নপত্র চড়া দামে অন্য শিক্ষার্থীদের কাছেও বিক্রি করেছিলেন। এই কলঙ্কিত কাণ্ডটি দেশের সবচেয়ে বড় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও লাখ লাখ পরিশ্রমী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • নিট ২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় দালালদের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ক্রেতা অভিভাবকদেরও জেরা করছে সিবিআই।
  • মহারাষ্ট্রের নান্দেদ ও লাতুরে সিবিআইয়ের বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে ল্যাপটপ, মোবাইল ও বিভিন্ন নথি জব্দ করেছে।
  • সন্তানদের মেডিকেল কলেজে ভর্তি নিশ্চিত করতে অভিভাবকেরা ৫ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করেছেন বলে সন্দেহ।
  • পুনের একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারের সন্দেহজনক বিজ্ঞাপনী পোস্টার সিবিআইয়ের নজরদারিতে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *