একুশের হিংসার ফাইল খুলতেই তোলপাড়! ১৮১টি নতুন FIR, অ্যাকশনে শুভেন্দু সরকার

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার পুরনো ফাইল নতুন করে খুলতে শুরু করেছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে সেই সময়ে ঘটে যাওয়া খুন ও হামলার ঘটনাগুলিতে বড়সড় পদক্ষেপ নিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। এই হিংসার ঘটনায় নতুন করে ৪৫৮টি তদন্ত শুরু করার পাশাপাশি ১৮১টি নতুন এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। এমনকি, অতীতে যে ৫৯টি মামলায় চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিয়ে ফাইল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলিও পুনরায় খুলে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক সংঘাত ও তরজা
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের পুলিশ বাহিনীকে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS) অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকলেও আক্রান্ত পরিবারগুলি যেন সাহসের সঙ্গে এগিয়ে এসে অভিযোগ জানান। অন্যদিকে, সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, গণনাকেন্দ্রে তৃণমূলের এজেন্টদের জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী হিংসার সময় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
আদালতে মমতা এবং নতুন মোড়
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর হওয়া সাম্প্রতিক অশান্তি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি এইচ সি সুজয় পালের এজলাসে হাজির হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে অগ্নিসংযোগ ও গুন্ডামির অভিযোগ তুলে তিনি মানুষের অবিলম্বে সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের সামনেই দলের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে এবং এই হিংসায় তাঁদের ১০ জন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন পেয়ে প্রথমবার রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি এবং তৃণমূলের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৮০-তে।
এক ঝলকে
- ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার তদন্তে বড় পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে ১৮১টি এফআইআর দায়ের এবং ৫৯টি বন্ধ হয়ে যাওয়া মামলা পুনরায় চালু করা হয়েছে।
- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীনে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার এবং আক্রান্তদের ভয় না পেয়ে অভিযোগ জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
- তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী গণনায় কারচুপি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন।
- রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হয়ে মানুষের নিরাপত্তা দাবি করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।