তোলাবাজির অভিযোগে মধ্যরাতে গ্রেফতার বিধাননগরের কাউন্সিলর সুশোভন, অন্ডালে ধৃত তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানও

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে নতুন সরকারের কঠোর অবস্থান ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। তোলাবাজি, হুমকি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির জেরে এবার পুলিশের জালে জড়ালেন দুই প্রভাবশালী স্থানীয় নেতা। সোমবার মধ্যরাতে পৃথক দুটি অভিযানে বিধাননগর পুরসভার এক কাউন্সিলর এবং অন্ডালের এক গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজনৈতিক রং না দেখে অপরাধের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ প্রশাসনের সদিচ্ছাকেই প্রমাণ করছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
দোকান সংস্কারে বাধা ও টাকা দাবির অভিযোগ
সোমবার গভীর রাতে বিধাননগর পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশোভন মণ্ডল ওরফে মাইকেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ, কেষ্টপুর এলাকায় একটি দোকান সংস্কারের কাজের জন্য এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা তোলা দাবি করেছিলেন তিনি। ওই ব্যবসায়ী টাকা দিতে অস্বীকার করায় কাউন্সিলর প্রভাব খাটিয়ে সংস্কারের কাজ আটকে দেন বলে অভিযোগ। এরপরই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তৎপরতার সাথে মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে সুশোভনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
অন্ডালে লুটপাট ও হুমকির জেরে পদক্ষেপ
অন্যদিকে, পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালের ছোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান রামচরিত পাশওয়ানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় লুটপাট, তোলাবাজি ও বিরোধীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এতদিন পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তবে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর একের পর এক অভিযোগের তদন্ত শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবারই তাঁকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হচ্ছে।
প্রশাসনের কড়া বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই জোড়া গ্রেফতারির ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বড়সড় বার্তা দিয়েছে। এর আগে প্রধান বিরোধী দল থাকাকালীন বিজেপি তৎকালীন শাসকদলের বিরুদ্ধে যে সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল, ক্ষমতায় এসে সেগুলির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে। ঘটনার বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে, স্থানীয় স্তরে সিন্ডিকেট রাজ এবং তোলাবাজি বন্ধ করতে প্রশাসন এবার অত্যন্ত কঠোর। এই ধরনের পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা ফিরবে, অন্যদিকে স্থানীয় স্তরের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত নেতাদের ওপর বড়সড় মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি হবে।