রুশ তেল কিনতে ট্রাম্পের সবুজ সংকেত, হরমুজ সংকটের মাঝেই বড় স্বস্তি ভারতের

রুশ তেল কিনতে ট্রাম্পের সবুজ সংকেত, হরমুজ সংকটের মাঝেই বড় স্বস্তি ভারতের

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীর তীব্র সংকটের মাঝে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতকে বড় স্বস্তি দিয়ে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করল আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ যেমন স্থিতিশীল থাকবে, তেমনই ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলি বড়সড় আর্থিক ও জ্বালানি সংকট থেকে রেহাই পাবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার রাশিয়া থেকে তেল কেনার পূর্বনির্ধারিত সাময়িক ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে এই সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন রাজস্ব দপ্তরের সচিব স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং অপরিশোধিত তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলির জন্য রুশ তেল কেনার মেয়াদ আরও ৩০ দিন বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, এই ছাড় শুধুমাত্র বর্তমানে ট্রানজিটে বা জাহাজে থাকা তেলের চালানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

আমদানির গ্রাফ ও মার্কিন চাপ

চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ির কারণে ভারতের বড় বড় তৈল শোধনাগারগুলি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অনেকটাই কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর আমেরিকার বিশেষ ছাড়ের সুযোগ নিয়ে ভারতীয় শোধনাগারগুলি প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করে। শুধু তাই নয়, এই বিশেষ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর ইরানি তেলও ভারতের বন্দরে এসে পৌঁছায়। পুনরায় মার্কিন ছাড় মেলায় ভারতীয় তৈল শোধনাগারগুলি নির্বিঘ্নে তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখতে পারবে।

ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি সুরক্ষায় প্রভাব

হরমুজ প্রণালীতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের পথ যখন অবরুদ্ধ হওয়ার উপক্রম, তখন আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। রাশিয়া থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে তেল আমদানি অব্যাহত রাখতে পারলে ভারতের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে। এর ফলে একদিকে যেমন দেশের খুচরো বাজারে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমবে, অন্যদিকে ভারতের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে, যা বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *