উষ্ণ হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগর, শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কায় কি মার খাবে দেশের বর্ষা

উষ্ণ হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগর, শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কায় কি মার খাবে দেশের বর্ষা

প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জলবায়ুর বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমেরিকার আবহাওয়া সংস্থা ‘ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (এনওএএ) সাম্প্রতিক এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ একটি শক্তিশালী ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮২ শতাংশ। এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার কারণে সমুদ্রের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে ভারতীয় উপমহাদেশের বর্ষা তথা সামগ্রিক আবহাওয়ার ওপর।

কৃষিক্ষেত্রে অশনি সংকেত ও আইএমডি-র পূর্বাভাস

ভারতের কৃষি ও অর্থনীতি মূলত জুন থেকে সেপ্টেম্বরের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর ওপর নির্ভরশীল। দেশের মাত্র ৫৫ শতাংশ কৃষিজমিতে কৃত্রিম সেচের ব্যবস্থা রয়েছে, বাকি অংশ সম্পূর্ণভাবে বর্ষার জলের ওপর ভরসা করে থাকে। ফলে এল নিনোর প্রভাবে বর্ষা দুর্বল হলে তা দেশের খাদ্য সুরক্ষায় বড় আঘাত হানতে পারে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) জানিয়েছে, চলতি বছরে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হতে পারে এবং এর পরিমাণ ৯২ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে, দুর্বল বর্ষার সম্ভাবনা ৩৫ শতাংশ এবং স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস ৩১ শতাংশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০০২, ২০০৪ এবং ২০০৯ সালের এল নিনো পরিস্থিতিতে ধান, বাজরাসহ বিভিন্ন খারিফ শস্যের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল, এমনকি কিছু জেলায় উৎপাদন ১০ শতাংশের নিচে নেমে গিয়েছিল।

কারণ ও দূরগামী অর্থনৈতিক প্রভাব

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী মহাসাগরগুলো দ্রুত উত্তপ্ত হচ্ছে এবং চলতি বছরের এপ্রিল মাসটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম এপ্রিল। এই অতিরিক্ত উষ্ণতার ফলেই এল নিনোর মতো দুর্যোগপূর্ণ সাইকেলগুলো বারবার ফিরে আসছে। যদি এই পূর্বাভাসের জেরে বর্ষা পর্যাপ্ত না হয়, তবে দেশের ফসল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। যার সরাসরি প্রভাবে খাদ্যশস্যের দাম বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি বড়সড় সংকটের মুখে পড়বে। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, এল নিনো মানেই নিশ্চিত খরা নয়; ভারত মহাসাগরের নিজস্ব কিছু বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের ফলে আফ্রিকা সংলগ্ন অঞ্চলের আর্দ্রতা ভারতের দিকে এলে পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূলেও আসতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের এই ধারা দেশের ভবিষ্যৎ কৃষি ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *