সল্টলেকের গেস্ট হাউসে তরুণীর রহস্যমৃত্যু, আম পাড়তে গিয়ে দুর্ঘটনা নাকি ধর্ষণ করে খুন

সল্টলেক সেক্টর ওয়ানের একটি গেস্ট হাউসের সামনে থেকে এক তরুণীর দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও রহস্য দানা বেঁধেছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে বন্ধুদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর তত্ত্ব খতিয়ে দেখলেও, পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের পর খুনের গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। দুর্ঘটনা ও খুনের এই দ্বিমুখী দাবিতে ঘটনাটি ঘিরে চরম রহস্য তৈরি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও বন্ধুদের দাবি
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে ওই তরুণী তাঁর এক বান্ধবী এবং দুই যুবকের সঙ্গে একটি অ্যাপ ক্যাবে করে সল্টলেকের ওই গেস্ট হাউসে আসেন। তাঁর সঙ্গীদের দাবি, রাতের দিকে গেস্ট হাউসের পাশের একটি গাছে আম পাড়তে উঠেছিলেন ওই তরুণী এবং সেখান থেকে আচমকা নীচে পড়ে গিয়ে গুরুতর চোট পান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁর সঙ্গীরা তাঁকে উদ্ধার করে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবারের পাল্টা অভিযোগ ও পুলিশি তদন্ত
এই ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে একেবারেই নারাজ মৃতের পরিবার। তরুণীর মায়ের স্পষ্ট দাবি, তাঁর মেয়ে কোনওদিনই গাছে উঠতে পারতেন না। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ করার পর ওপর থেকে ফেলে দিয়ে খুন করা হয়েছে। মায়ের এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নেমেছে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মৃতের ওই বান্ধবী ও দুই যুবকসহ মোট তিনজনকে আটক করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও এর নেপথ্যে কোনো অপরাধ রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য আরজিকর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।