শিক্ষক থেকে কাউন্সিলর হয়েই ভাগ্যবদল, হলদিয়ায় তৃণমূল নেতার বিলাসবহুল প্রাসাদ নিয়ে শোরগোল

হাওড়ার এক তৃণমূল নেতার বিলাসবহুল বাংলো নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় সামনে এল আরেক শাসকদল নেতার চোখ ধাঁধানো সম্পত্তি। হলদিয়া পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিবেদিতা কলোনির মেইন রোডের ওপরে গড়ে ওঠা তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব পট্টনায়কের চারতলা বিলাসবহুল বাড়িটি এখন স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গ্রিল এবং কাচ দিয়ে ঘেরা এই আধুনিক প্রাসাদের ভেতরে রয়েছে দামী আসবাবপত্র ও আধুনিক গ্যাজেটের বিপুল সম্ভার। পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সঞ্জীবের এই রকেটের গতিতে সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে ইতিমধ্যেই চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
উল্কা গতিতে উত্থান ও রহস্যময় সম্পত্তি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সঞ্জীব পট্টনায়েকের মা প্রথমে কাউন্সিলর ছিলেন এবং পরবর্তীতে ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সঞ্জীব নিজেও কাউন্সিলরের দায়িত্ব সামলান। মা ও ছেলের জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর থেকেই মূলত তাঁর আর্থিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। ২০১৭ সালে কাউন্সিলর হওয়ার পরপরই তিনি এই চারতলা বাড়িটি তৈরি করতে হাত দেন এবং ২০১৯ সাল থেকে তা ভাড়াও দেওয়া শুরু হয়। বর্তমানে এই বহুতলের একটি ফ্লোর তাঁর নিজের পরিবারের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে, পাশাপাশি একটু দূরেই রয়েছে তাঁর আরও একটি পারিবারিক দোতলা পাকা বাড়ি। জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর বিপুল অঙ্কের অর্থ উপার্জন এবং সপরিবারে একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণের মতো ঘটনা তাঁর এই দ্রুত উত্থানকে আরও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তাপসী মন্ডলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সঞ্জীব পট্টনায়েক ২০১৩ সালে প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি পান। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, শিক্ষকতার চাকরি এবং কাউন্সিলর পদের অপব্যবহার করেই এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি গড়ে তোলা হয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা সরাসরি তাঁর বিরুদ্ধে চাকরি চুরি এবং কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলছেন। যদিও এই বিপুল সম্পত্তি ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব পট্টনায়েককে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগ দুর্নীতি ও নেতাদের সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে রাজ্যে যখন প্রতিনিয়ত বিতর্ক চলছে, তখন হলদিয়ার এই ঘটনা স্থানীয় স্তরে শাসকদলের ভাবমূর্তিকে নতুন করে সংকটে ফেলতে পারে। বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন আরও জোরদার করার সুযোগ পাবে, যা আগামী দিনে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করতে পারে।