পুরনিগমের স্ক্যানারে অভিষেকের সম্পত্তি, কী যুক্তি দিলেন মেয়র ফিরহাদ?

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি নিয়ে এবার নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু করল কলকাতা পুরনিগম। সাংসদের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংশ্লিষ্ট ২১টি সম্পত্তির নথিপত্র এবং অনুমোদনের খতিয়ান চেয়ে নোটিস পাঠিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি থেকে শুরু করে কালীঘাট মোড়ের বহুতল, এই তালিকায় রয়েছে একাধিক সম্পত্তি। তবে পুরসভার এই পদক্ষেপ নিয়ে খোদ মেয়র ফিরহাদ হাকিমের মন্তব্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
মেয়রের অজ্ঞতা এবং কমিশনারের এক্তিয়ার
এই হাইপ্রোফাইল নোটিস ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধতেই মুখ খুলেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি সংক্রান্ত এই নোটিস দেওয়ার বিষয়ে আগে থেকে তাঁকে কিছুই জানানো হয়নি। মেয়রের যুক্তি, পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ কোন বাড়ির নকশা পরীক্ষা করবে বা কোন বেআইনি নির্মাণ ভাঙবে, সেই সিদ্ধান্ত মেয়র একা নেন না। পুরসভার আইন অনুযায়ী কমিশনার পদাধিকার বলে এই ধরনের পদক্ষেপ করার সম্পূর্ণ এক্তিয়ার রাখেন। ফলে এই প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা মেয়রের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ভূমিকা নেই বলেই তিনি বোঝাতে চেয়েছেন।
রাজনৈতিক চাপ ও নোটিসের নেপথ্য কারণ
সাম্প্রতিক এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক চাপ এবং আইনি বাধ্যবাধকতা, উভয় কারণই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দু’দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের সম্পত্তির খতিয়ান তুলে ধরে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন। কলকাতা পুরনিগম থেকেই এই সম্পত্তির তালিকা আনা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। এর পরপরই পুরনিগমের ৯ নম্বর বোরো অফিস থেকে বিল্ডিং বিভাগের আইনের ৪০০(১) ধারায় নোটিস পাঠানো হয়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত নামের পরিবর্তে তাঁর সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ এর নামে নোটিস পাঠানোর পেছনেও রয়েছে বিশেষ আইনি কারণ। বিগত লোকসভা নির্বাচনের হলফনামায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ঠিকানা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের উল্লেখ করেছিলেন। তিনি যে বাড়ি বা অফিস ব্যবহার করেন, তা মূলত ওই সংস্থার সম্পত্তি। যেহেতু অভিষেক নিজেই এই সংস্থার অন্যতম প্রধান কর্ণধার এবং সম্পত্তিগুলো সংস্থার নামে নথিবদ্ধ, তাই পুরনিগম সরাসরি সংস্থাকেই নোটিস পাঠিয়ে নকশা ও নির্মাণের সঙ্গতি যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে। আগামী দিনে এই নথির ভিত্তিতে পুরসভা কী পদক্ষেপ করে, তার ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি।