ফলতায় ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ালেন জাহাঙ্গির খান, বিতর্ক ঢাকতে আসরে তৃণমূল!

ফলতায় ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ালেন জাহাঙ্গির খান, বিতর্ক ঢাকতে আসরে তৃণমূল!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের নির্বাচনী লড়াই থেকে আচমকা সরে দাঁড়ানো। মঙ্গলবার দুপুরে আকস্মিক এক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তিনি আগামী ২১ মে-র পুনর্নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। নিজের মুখে একে ‘ফলতার মানুষের স্বার্থে উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত’ বলে দাবি করলেও, এই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অবশেষে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

দলীয় সিদ্ধান্ত নাকি ব্যক্তিগত ইচ্ছা

সাংবাদিক বৈঠকে নিজের সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে জাহাঙ্গির খান ফলতার সার্বিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের স্বার্থের কথা উল্লেখ করেন। তবে এই সিদ্ধান্ত দল চাপিয়ে দিয়েছে নাকি এটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি তিনি। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ইভিএম-এ টেপ লাগানো বা ভোট প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানোর মতো নানা অভিযোগও তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন বাড়তেই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে সাফ জানানো হয়েছে, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো জাহাঙ্গির খানের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, এর সঙ্গে দলের কোনো সংযোগ নেই।

নেপথ্য কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব

জাহাঙ্গিরের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরের সমীকরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তৃণমূলের প্রবীণ নেতা কুণাল ঘোষ এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে একে ডায়মন্ড হারবার মডেল এলাকার অন্তর্গত বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জাহাঙ্গির খানের মতো নেতার আচমকা এই পদক্ষেপকে দলের জন্য খুব একটা ইতিবাচক বিজ্ঞাপন নয় বলেও ইঙ্গিত করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুনর্নির্বাচনের ঠিক মুখে দলের একজন প্রভাবশালী নেতার এভাবে সরে দাঁড়ানো এবং দলের তরফ থেকে দূরত্ব বজায় রাখার এই কৌশল আগামী দিনে ফলতার স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণের জন্ম দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *