তৃণমূলের হেভিওয়েট দেবরাজ চক্রবর্তীর পর এবার গ্রেফতার তাঁর ছায়াসঙ্গীও! তোলপাড় বিধাননগর

তৃণমূলের হেভিওয়েট দেবরাজ চক্রবর্তীর পর এবার গ্রেফতার তাঁর ছায়াসঙ্গীও! তোলপাড় বিধাননগর

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হতেই পূর্বতন শাসকদলের প্রভাবশালী নেতাদের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। মঙ্গলবার রাতে রাজারহাট-গোপালপুর ও বিধাননগর পুর এলাকায় তৃণমূলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ দেবরাজ চক্রবর্তীকে পুলিশ আটক করার পরপরই, পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন তাঁরই ছায়াসঙ্গী তথা অত্যন্ত বিশ্বস্ত অনুগামী অমিত চক্রবর্তী ওরফে ননী। এক প্রোমোটারকে মারধর এবং তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলার গুরুতর অভিযোগে এই গ্রেফতারি চালানো হয়েছে। ধৃত অমিতকে বুধবার সকালেই বারাসাত জেলা আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাচ্ছে পুলিশ।

৫০ লক্ষ টাকার কাটমানি দাবি ও মারধর

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাগুইআটি থানার অন্তর্গত রঘুনাথপুর এলাকায় কিশোর হালদার নামে এক স্থানীয় প্রোমোটারের কাছ থেকে একলপ্তে ৫০ লক্ষ টাকা তোলা বা কাটমানি দাবি করেন অমিত চক্রবর্তী। প্রাণভয়ে প্রাথমিক কিস্তি হিসেবে ওই প্রোমোটার ৩ লক্ষ টাকা অমিতের হাতে তুলে দিলেও, পরবর্তীতে বাকি বিপুল পরিমাণ টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এর পরেই তাঁর ওপর চড়াও হয় অভিযুক্তরা। অভিযোগ, প্রোমোটার কিশোর হালদারকে আগ্নেয়াস্ত্রের বাট এবং লোহার রড দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর বাগুইআটি থানায় একটি সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্ত ব্যবসায়ী। সেই পুরনো মামলার সূত্র ধরেই মঙ্গলবার রাতে অমিতকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভিষেক-ঘনিষ্ঠ দেবরাজের পতন ও রাজনৈতিক প্রভাব

তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ অনুযায়ী, দেবরাজ চক্রবর্তী স্রেফ একজন সাধারণ কাউন্সিলর বা মেয়র পারিষদ ছিলেন না; তিনি ছিলেন ক্যামাক স্ট্রিটের অলিন্দে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন ও যুব তৃণমূলের মূল চালিকাশক্তি। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী এই নেতা কামারহাটি, দমদম ও বিধাননগরসহ সমগ্র শিল্পাঞ্চলে যুব সংগঠনের রাশ নিজের কবজায় রেখেছিলেন। অতীতে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি ও সিবিআই-এর রাডারেও এসেছিলেন তিনি।

রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকেই দেবরাজের প্রতিটি গতিবিধির ওপর কঠোর নজরদারি চালাচ্ছিল পুলিশ ও গোয়েন্দারা। তাঁর বিরুদ্ধে মূলত বিধাননগর পুর এলাকায় দেদার বেআইনি নিয়োগ এবং বিভিন্ন সরকারি টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল আর্থিক দুর্নীতির খতিয়ান তৈরি করা হয়েছে। পুলিশি তৎপরতা টের পেয়ে গত কয়েক দিন ধরে নিজের সমস্ত মোবাইল ফোন বন্ধ করে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছিলেন দেবরাজ। অবশেষে মঙ্গলবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে হদিস পেয়ে পুলিশ তাঁকে আটক করে। দেবরাজ ও তাঁর ছায়াসঙ্গীর এই পতনে উত্তর ২৪ পরগনার তৃণমূল শিবিরে এক বিশাল ধস নামল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *