মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে জুনেই আসছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’, দেখে নিন আবেদনের নিয়ম ও যোগ্যতা

রাজ্যের মহিলাদের জন্য অত্যন্ত সুখবর। লোকসভা নির্বাচনের সময় দেওয়া বড় প্রতিশ্রুতি অবশেষে বাস্তবায়িত হতে চলেছে। আগামী ১ জুন থেকেই রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে মোদী সরকারের বহু প্রতীক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে সরাসরি নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। গত সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভায় নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দফতরের অধীনে এই প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন মেলার পর, মঙ্গলবার রাজ্য অর্থ দফতরের পক্ষ থেকে আবেদনের প্রক্রিয়া এবং যোগ্যতা সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত বিবৃতি জারি করা হয়েছে।
লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রকল্প ছিল ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা এই প্রকল্পে মহিলারা ১,৫০০ থেকে ১,৭০০ টাকা পর্যন্ত পেতেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি তাদের সংকল্পপত্রে মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘অন্নপূর্ণা যোজনার’ কথা ঘোষণা করে। অর্থ দফতরের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যাঁরা ইতিমধ্যেই ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন, তাঁদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্পে স্থানান্তরিত বা ট্রান্সফার হয়ে যাবে। ফলে তাঁদের নতুন করে লাইনে দাঁড়াতে হবে না, সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। তবে যাঁরা এর আগে লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পাননি, তাঁরাও এই নতুন প্রকল্পে নতুন করে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের যোগ্যতা ও যাচাই প্রক্রিয়া
এই প্রকল্পে আবেদনের জন্য মহিলাদের বয়স অবশ্যই ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। আগামী ১ জুন থেকে প্রকল্পের নির্দিষ্ট পোর্টাল খুলে দেওয়া হবে, যেখানে আগ্রহীরা আবেদন করতে পারবেন। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে যাচাই করবে প্রশাসন। গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে বিডিও (BDO), শহর এলাকায় মহকুমাশাসক (SDO) এবং কলকাতা পুরসভা এলাকার জন্য পুরসভার আধিকারিক ও কমিশনার আবেদনের সত্যতা যাচাই করবেন। সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে তা অনুমোদিত হলে পোর্টালে আপলোড করা হবে এবং তারপরেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হবে।
কারা এই সুবিধা পাবেন না
অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রের মহিলারা এই ৩,০০০ টাকার আর্থিক সুবিধা পাবেন না। কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের স্থায়ী চাকরিজীবী, সরকারি পেনশনভোগী, রাজ্য সরকারের অনুমোদিত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী, পঞ্চায়েত কর্মী এবং আয়করদাতারা এই প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকবেন। এ ছাড়া ২০২৬ সালের এসআইআর (SIR) তালিকা অনুযায়ী যাঁরা মৃত, অনুপস্থিত, বাদ পড়েছেন কিংবা যাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, ট্রাইবুনালে সেই বিষয়ের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁরাও এই সুবিধা পাবেন না।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহরের প্রান্তিক মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন আরও সুদৃঢ় হবে এবং তাঁদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এটি একটি বড়সড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।