তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে বাংলা, পড়ুয়াদের সুরক্ষায় রেকর্ড ৫৭ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে গরমের ছুটি!

মে মাসের মাঝামাঝি সময়েই তীব্র দাবদাহে নাজেহাল অবস্থা দেশজুড়ে। জেলায় জেলায় শুরু হয়ে গিয়েছে জ্বালা ধরানো গরম। কোথাও তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি, আবার কোথাও পারদ ছুঁই ছুঁই করছে ৪০ থেকে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই চরম আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে স্কুলপড়ুয়ারা। গরমের মধ্যে কচিকাঁচাদের দিনের বেলায় স্কুলে পাঠানো নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের একাধিক রাজ্যে গরমের ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলো। রাজ্যভিত্তিক এই ছুটির মেয়াদ ৩১ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৫৭ দিন পর্যন্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।
ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধির কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল নিনোর প্রভাবে উত্তর ও পূর্ব ভারতসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে গ্রীষ্মের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহের কারণে দিনের বেলা বাইরে বের হওয়াই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের হিটস্ট্রোক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতেই মূলত ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। রাজ্য শিক্ষা দপ্তরগুলোর সূত্রমতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জোর করে স্কুল খোলা রাখলে পড়ুয়াদের অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল।
বিভিন্ন রাজ্যের সিদ্ধান্ত ও স্কুল খোলার সম্ভাব্য সময়
তীব্র গরমের কারণে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে স্কুল ছুটির নিয়মে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। দিল্লি এনসিআরের পার্শ্ববর্তী স্কুলগুলোতে আগামী ১১ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং হরিয়ানাতেও ৩০ মে পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে বিহার, উত্তর প্রদেশ, তেলেঙ্গানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশে গরমের তীব্রতা বিবেচনা করে জুনের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশাতেও একই কারণে জুনের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে স্কুল খোলার সম্ভাবনা রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে শিক্ষা দপ্তর। আপাতত বাংলার বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলগুলোতে গরমের ছুটির মেয়াদ ৩১ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, আগামী দিনগুলোতে যদি গরমের তীব্রতা ও তাপপ্রবাহ আরও বৃদ্ধি পায়, তবে পড়ুয়াদের সুরক্ষায় ছুটির মেয়াদ পরবর্তীতে আরও বাড়ানো হতে পারে।