বিপর্যয়ের মুখে কর্ণাটক, ধেয়ে আসছে ভয়ঙ্কর শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়

ভারতের দক্ষিণী রাজ্য কর্ণাটকে আবহাওয়া পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হতে চলেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত, তীব্র শিলাবৃষ্টি এবং শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (IMD)। উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই ‘কমলা’ ও ‘হলুদ’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মূলত সক্রিয় প্রাক-বর্ষার (Pre-Monsoon) প্রভাবেই রাজ্য জুড়ে এই চরম বৈরী আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা।
ঝড়ের দাপট ও দুই রঙের সতর্কতা
আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কর্ণাটকের চিকমাগালুর, হাসান, কোডাগু, মান্ড্য এবং মহীশূর জেলায় বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির সাথে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া এবং শিলাবৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। চরম ঝুঁকির কারণে এই জেলাগুলোতে ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, বেঙ্গালুরু নগর, বেঙ্গালুরু গ্রামীণ, কোলার, চিক্কাবল্লাপুর, চিত্রদুর্গ এবং তুমাকুরু জেলায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করেছে প্রশাসন। এছাড়া উপকূলীয় ও উত্তর অভ্যন্তরীণ কর্ণাটকের বেলাগাভি, ধারওয়াড়, গাদাগ এবং কালাবুরাগি জেলাতেও বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি অস্থির থাকতে পারে।
ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ও জনজীবনে সম্ভাব্য প্রভাব
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে রাজ্যের জনজীবন ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, বেঙ্গালুরুর মতো জনবহুল মেগাসিটির নিচু এলাকাগুলোতে জল জমে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে উপড়ে যেতে পারে গাছপালা এবং ভেঙে পড়তে পারে বিদ্যুতের খুঁটি, যার ফলে সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে বিদ্যুৎ সরবরাহ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন কৃষকেরা। খোলা মাঠে থাকা পাকা ফসল শিলাবৃষ্টি এবং ভারী বর্ষণে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে, ঝড়ের সময় ঘরের ভেতরে থাকতে এবং বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে কৃষকদের দ্রুত ফসল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন।